অপারেশন সিঁদুর
‘অপারেশন সিঁদুর’-এ শহিদ দেশের ৬ বীর জওয়ান! এক বছর পর অবশেষে নাম প্রকাশ কেন্দ্রের
ডিজিটাল ডেস্কঃ ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের চালানো ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) অভিযানে কতজন ভারতীয় সেনা শহিদ হয়েছিলেন, তা নিয়ে এতদিন ধোঁয়াশা ছিল। অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারত সরকার প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে শহিদ ৬ বীর জওয়ানের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেছে। নতুন দিল্লির ‘ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়াল’ (National War Memorial)-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের ‘রোল অব অনার’ (Roll of Honour) সেকশনে এবং মেমোরিয়ালের গ্রানাইটের তৈরি ‘৩ডি ওয়ালে’ (3D Wall) ২০২৫ সালের তালিকায় তাঁদের নাম খোদাই করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে লস্করের শাখা সংগঠন টিআরএফ (The Resistance Front) নিরীহ ২৬ জন পর্যটককে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এর মোক্ষম জবাব দিতে ৭ মে ভোররাতে ভারতীয় সেনাবাহিনী (Indian Army) এবং বিমানবাহিনী (Indian Air Force) যৌথভাবে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। এই বিধ্বংসী ‘প্রিসিশন স্ট্রাইকে’ (Precision Strikes) পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) মোট ৯টি প্রধান জঙ্গিঘাঁটি এবং জইশ ও লস্করের সদর দফতর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ভারতের পাল্টা প্রত্যাঘাতে পাকিস্তানের অন্তত ১১টি বায়ুসেনা ঘাঁটি তছনছ হয় এবং ১০০ জনেরও বেশি জঙ্গি ও প্রায় ৩৫-৪০ জন পাক সেনা নিহত হয়। ৪ দিনব্যাপী এই তীব্র সংঘাতের পর ১০ মে দুই দেশের ডিজিএমও (DGMO) পর্যায়ের বৈঠকে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়।
দেশমাতৃকার রক্ষায় আত্মবলিদান দেওয়া এই ৬ বীর যোদ্ধার মধ্যে ৫ জন সেনাবাহিনীর এবং ১ জন বিমানবাহিনীর সদস্য। দেশের প্রতি অসামান্য অবদানের জন্য তাঁদের মধ্যে দুজনকে মরণোত্তর বীরত্বের সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। শহিদদের তালিকা ও তাঁদের রেজিমেন্ট নিচে দেওয়া হলো:
-
রাইফেলম্যান সুনীল কুমার (৪ জম্মু ও কাশ্মীর লাইট ইনফ্যান্ট্রি) – মরণোত্তর ‘বীর চক্র’ (Vir Chakra) সম্মানে ভূষিত।
-
সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমার (৩৯ উইং, ভারতীয় বিমানবাহিনী) – মরণোত্তর ‘বায়ুসেনা পদক’ (Vayu Sena Medal) প্রাপ্ত।
-
সুবেদার মেজর পবন কুমার (হেডকোয়ার্টার্স ১০ ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেড)।
-
ল্যান্স নায়েক দীনেশ কুমার (৫ ফিল্ড রেজিমেন্ট)।
-
অ্যাভিয়েশন টেকনিশিয়ান মুড মুরলীনায়েক (৮৫১ লাইট রেজিমেন্ট)।
-
হাবিলদার সুনীল কুমার সিং (২৩৭ ফিল্ড ওয়ার্কশপ কোম্পানি)।
২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার পর নির্মিত ৪টি সমকেন্দ্রিক বৃত্তাকার বা ‘চক্রব্যূহের’ (Chakravyuh) আদলে গড়া এই জাতীয় যুদ্ধ স্মারকের ‘ত্যাগ চক্রে’ এই বীরদের নাম চিরতরে অমর হয়ে রইল।
