ডিজিটাল ডেস্কঃ বোলপুরের ভাইরাল অডিও-কাণ্ডে (Anubrata Mondal Viral Audio Case) নয়া মোড়। এবার অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal) হুমকি-কাণ্ডে সরাসরি থানার আইসি (Bolpur IC) লিটন হালদারের (Liton Haldar) বিরুদ্ধেই বিভাগীয় তদন্ত শুরু করল বীরভূম জেলা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তের স্বার্থে আইসির মোবাইল ফোন সিজ করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার একটি অডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়, যেখানে বোলপুর থানার আইসি ও তাঁর পরিবারকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শোনা যায় অনুব্রত মণ্ডলকে। এরপরই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মুখপাত্রের মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এই ঘটনার নিন্দা জানায় এবং দলীয় চাপের মুখে অনুব্রত প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। তবে ক্ষমা চাইলেও, বীরভূমের এই প্রভাবশালী নেতা এখনও পুলিশি তলবে সাড়া দেননি। তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলাও রুজু করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ শংকর মালাকার কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে, ভোটের আগে বড় দলবদল
এর মধ্যেই জেলা পুলিশের তরফে পালটা বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত। প্রশ্ন উঠেছে— অনুব্রতের হুমকির সেই অডিও ক্লিপ বিজেপি (BJP) নেতৃত্ব কিভাবে পেল? এই প্রশ্ন তুলেই আগেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন অনুব্রত, যা এবার পরোক্ষে আমল নিল পুলিশ প্রশাসন। সেই কারণেই তদন্তের মুখে আইসি লিটন হালদার। যদিও এই বিষয়ে বীরভূমের পুলিশ সুপার আমনদীপ (Amandeep) বা অভিযুক্ত আইসির কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
ঘটনার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দানা বাঁধতে শুরু করেছে। বিরোধীদের দাবি, “কেষ্টকে বাঁচাতে বলির পাঁঠা করা হচ্ছে আইসিকে।” শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আগেই দাবি করেছিলেন, “এই ঘটনায় কেষ্টর কিছু হবে না, বরং বোলপুরের আইসি সাসপেন্ড হবেন।” বিজেপির মতে, সেই চিত্রই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
তবে পুলিশ সূত্র বলছে, বিষয়টিকে একতরফাভাবে দেখা ঠিক নয়। তাদের মতে, অনুব্রতের বিরুদ্ধে হুমকি ও অশালীন ভাষার অভিযোগ যেমন গুরুতর, তেমনি তদন্ত চলাকালীন অডিও ক্লিপ কোনও রাজনৈতিক দলের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টিও তদন্তযোগ্য অপরাধ। তদন্তাধীন বিষয়ের তথ্য ফাঁস হওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে, আর সেখানেই প্রশ্ন আইসির ভূমিকাকে ঘিরে।
প্রসঙ্গত, অডিও ক্লিপটি সর্বপ্রথম সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। এরপরই অনুব্রতের গলা চিহ্নিত করে শুরু হয় বিতর্ক। এবার সেই ঘটনায় তদন্তের মুখে পড়লেন থানার শীর্ষ পুলিশ কর্তা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের সরগরম রাজ্য রাজনীতি।