৪৫ বছরের সংসার সত্ত্বেও ‘পাকিস্তানি নাগরিক’ তকমায় গ্রেফতার রাজ্যের গৃহবধূ
Connect with us

দেশের খবর

৪৫ বছরের সংসার সত্ত্বেও ‘পাকিস্তানি নাগরিক’ তকমায় গ্রেফতার রাজ্যের গৃহবধূ

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ চন্দননগরের (Chandannagar) শান্ত পাড়ায় এমন ঘটনা ঘটবে, তা কল্পনাও করেননি স্থানীয়রা। স্বামী, দুই মেয়ে, দীর্ঘ ৪৫ বছরের দাম্পত্য জীবন—সবকিছুই স্বাভাবিক। অথচ সেই গৃহবধূকেই এবার ‘পাকিস্তানি নাগরিক’ তকমায় গ্রেপ্তার করল পুলিশ। শনিবার সকালে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের আধিকারিকেরা ওই মহিলাকে পাকড়াও করে বাড়ি থেকেই। অভিযুক্তর নাম ফতেমা বিবি (Fatema Bibi)।

ঘটনার পর গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রতিবেশীদের দাবি, এতদিনে কেউ কল্পনাও করেননি যে ফতেমা ‘বিদেশি’। বরং, সকলের কাছেই তিনি স্থানীয়, পরিচিত, একজন বয়স্ক গৃহবধূ। কিন্তু পুলিশ সূত্রে খবর, ১৯৮০ সালে ট্যুরিস্ট ভিসায় বাবার সঙ্গে ভারতে এসেছিলেন ফতেমা। এরপর ১৯৮২ সালে চন্দননগরের এক বেকারি মালিক মুজফ্ফর মল্লিকের (Mujaffar Mallik) সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।

পরিবারের দাবি, ফতেমার জন্ম হুগলির নালিকুলে। ছোটবেলায় কাজের সূত্রে বাবা-মা চলে যান পাকিস্তানের রাওয়ালপিণ্ডি (Rawalpindi)। কিন্তু আশির দশকেই তাঁরা পাকভূমি ত্যাগ করে পাকাপাকিভাবে ভারতে ফিরে আসেন। ফতেমার স্বামী মুজফ্ফরের বক্তব্য, “আমার স্ত্রীর বয়স ৬০ পেরিয়েছে। নিয়মিত চিকিৎসা প্রয়োজন। হাঁটুর অস্ত্রোপচারও দরকার। ওঁকে জেলে রাখা মানে অমানবিকতা।”

আরও পড়ুনঃ সেনা ক্যাম্পে ঢোকার অভিযোগে আফগান যুবক গ্রেপ্তার, তদন্ত শুরু

Advertisement
ads

তিনি আরও জানান, তাঁরা চন্দননগর পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার। ফতেমার আধার, প্যান কার্ড সবই রয়েছে। এমনকি ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য দীর্ঘদিন আগেই আবেদন করা হয়েছে, কিন্তু এখনও তা মঞ্জুর হয়নি। এই নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার দেরিতেই জটিলতা বেড়েছে বলে মত পরিবারের।

পুলিশ জানিয়েছে, ১৯৮১ সালের পর থেকে সরকারি রেকর্ডে ‘নিখোঁজ’ হিসেবেই নথিভুক্ত ছিলেন ফতেমা। কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনার পরে কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত পাকিস্তানি নাগরিককে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মোতাবেক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী পাক নাগরিকদের খোঁজ শুরু হয়। সেই প্রেক্ষিতেই উঠে আসে চন্দননগরের ফতেমার নাম।

এদিকে প্রতিবেশীরা জানাচ্ছেন, ফতেমা ও তাঁর পরিবার এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতেন। তাঁদের মতে, “ওঁর তো এখন আর পাকিস্তানে কেউ নেই। আত্মীয়স্বজন সবাই এদেশেই। এই বয়সে কোথায় যাবেন?”

ফতেমার পরিবার চাইছে, মানবিক দিক বিবেচনা করে আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁকে মুক্তি দেওয়া হোক। প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি মেলেনি।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement