জেলার খবর
ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে ভিটে মাটি হারা ধুলিয়ানের হিন্দুরা
নিউজ ডেস্ক: নতুন সংশোধিত ওয়াকফ বিলের প্রতিবাদে তেতে উঠেছে মুর্শিদাবাদ। শুক্রবার থেকে অশান্ত মুর্শিদাবাদের একাধিক এলাকা। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। রাতভর চলেছে পুলিশের টহলদারি।
উত্তপ্ত এলাকায় উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন রাত থেকেই। রবিবার থেকেও চিত্রটা বদলায়নি। এলাকায় স্থানীয় পুলিশ ও বিএসএফ টহল দিচ্ছে। বিএসএফর উচ্চপদস্থ আধিকারিকও উপস্থিত রয়েছেন এলাকাগুলিতে।
তবে রবিবারের বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে। তবুও প্রাণের ভয়ে নিজের ভিটে মাটি ছেড়ে পালাচ্ছেন ধুলিয়ানের হিন্দুরা। শনিবার রাত থেকে এমনই চিত্র দেখা গেল মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান ফেরিঘাট এলাকায়। সকল হিন্দুদের একই কথা, হামলাকারীরা বলছে যে ওরা বলছে হিন্দুদের টিকতে দেবে না। গর্জন উঠেছে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগেরও।
ওয়াকফ আইনের বিরোধিতা নিয়ে দেশের নানা প্রান্তে ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলছে। এই বিলের বিরোধিতা করেছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ মানুষ। তবে বিক্ষোভ বা বিরোধিতা চলাকালীন তার মাঝেই সংসদের দুই কক্ষে এই বিল পাশ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির অনুমতি পেয়ে এটি আইনে পরিণত হয়।
যার ফলে, এনিয়ে বাংলার মুসলিম অধ্যুসিত কিছু জেলা ও এলাকায় আন্দোলন-বিক্ষোভ শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই বিরাট আকার নেয়। মালদহের পর আন্দোলনে তেতে ওঠে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর, সুতি, ধুলিয়ান ও সামশেরগঞ্জ।
ধুলিয়ানের ফেরিঘাটে জমায়েত হওয়া কিছু মানুষ জানান, কিছুই নেই আর আমাদের। সব শেষ হয়ে গেছে। সোনার গয়না থেকে শুরু করে ঘরের সব আসবাবপত্র ঘর থেকে নিয়ে গিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে আমাদের প্রতিবেশী মুসলিম ভাই-বোনেরা। আর কিছুই রইলো না আমাদের।
আরও পড়ুন – মুরশিদাবাদের পর এইবার উত্তর দিনাজপুরেও ওয়াকফ বিল নিয়ে বিক্ষোভ
মাথা গোঁজার জায়গা টুকুও নেই আমাদের। কেউ কেউ বলছেন, সব জায়গায় বোমাবাজি করছে। আমাদের বলছে মোদী সরকার বিল পাশ করেছে, তাই একটা হিন্দুকেও টিকতে দেব না। হিন্দুদের রাহাজানি করবো।ঘর থেকে সোনা গহনা নিয়ে নিয়েছে, টাকা পয়সাতেও আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। তাই প্রাণে বাঁচার জন্য ঠাঁই নিতে হচ্ছে মালদহের বৈষ্ণবনগর থানার পারলালপুর হাইস্কুলে।
সেখানে ৫০০-র বেশি সকল বয়সের মুর্সিদাবাদবাসী থাকছেন। জানা যাচ্ছে, পারলালপুরের স্থানীয়রাই তাদের জল ও শুকনো খাবার দিয়ে সাহায্য করছেন। বাকি প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও পদক্ষেপ করা হয়েছে কিনা তা এখনও জানা যায়নি। তবে তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে? সেনিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন – উন্মত্ত ভিড় থামাতে চার রাউন্ড গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিল পুলিশ, জানালেন এডিজি
