ভিন রাজ্যে মৃত্যু হরিশচন্দ্রপুরের শ্রমিকের, দিশেহারা পরিবার, সাহায্যের আশ্বাস পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের
Connect with us

মালদা

ভিন রাজ্যে মৃত্যু হরিশচন্দ্রপুরের শ্রমিকের, দিশেহারা পরিবার, সাহায্যের আশ্বাস পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের

Dipa Chakraborty

Published

on

নিজস্ব সংবাদদাতা , হরিশচন্দ্রপুর , ০৯ মার্চ : ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে ক্রেন চাপা পড়ে প্রাণ হারালেন এক পরিযায়ী শ্রমিক। ঘটনায় শোকের ছায়া হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের মোশালদা গ্রাম পঞ্চায়েতের তালগাছির হাসেনপুর গ্রামে। মৃত ওই শ্রমিকের নাম শফিকুল আলম।একমাস আগেই ব্যাঙ্গালোরে গিয়েছিল শফিকুল।

সোমবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের কাছে খবর আসে ক্রেন চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে শফিকুলের। আকস্মিক এই মৃত্যুর ঘটনায় হতবাক পরিবারের সদস্যরা। উল্লেখ্য তার বাড়িতে রয়েছে বৃদ্ধ বাবা কেতাবউদ্দিন , মা সাজিনূর বিবি, স্ত্রী সোনাভান বিবি, চার নাবালিকা মেয়ে রয়েছে, ভাই সোনাদি হক, বোন আফসারা খাতুন।লক ডাউনে পায়ে হেঁটে বাড়ি এসেছিল শফিকুল। অভাবের সংসারে খাবার জোটাতে মাথার ঘাম ছুটে যেত শফিকুলের। সমস্ত সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে রয়েছে শফিকুল ও তার পরিবার। মেলেনি আবাস যোজনার ঘরও। ভাতা হয়ে গেলেও একবারই বৃদ্ধ ভাতা পেয়েছিলেন বাবা কেতাবউদ্দিন। ভাই সোনাদি হকও পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন।এলাকায় কোনো কাজ না মেলায়, বাধ্য হয়ে একমাস আগে আবারও কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছিল দুই ভাই।‌ শফিকুল যায় ব্যাঙ্গালোরে, ভাই সোনাদি কেরলের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়। ব্যাঙ্গালোরে ব্রীজের কাজ করতেন শফিকুল। পরিবারের এক রোজগেরের মৃত্যুতে কিভাবে তাদের দিন গুজরান হবে তা নিয়ে চিন্তায় দিশেহারা বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী, ও চার কন্যা।

শফিকুলের স্ত্রী সোনাভান বিবি বলেন, একমাস দশদিন আগে কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছিল সে। লকডাউনের সময় হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরেছিল। গতকাল সন্ধ্যা ছয়টার সময় খবর পেলাম স্বামী মারা গেছে। কীভাবে মারা গেছে তাও খবর পাইনি। শেষ কথা হয়েছিল গতকাল।
অন্যদিকে শফিকুলের মা সাজিনূর বিবি বলেন, পেটের দায়ে দুই ছেলেই বাইরে গিয়েছিল কাজ করতে। তার মধ্যে বড়জনের মৃত্যুসংবাদ এলো। । পনেরো দিন আগেই ছেলের সাথে কথা হয়েছিল। কীভাবে ছেলেমেয়েদের পড়াবো আর কীভাবে সংসার চলবে তা বুঝতে পারছেন না তিনি।
মোশালদা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, পঞ্চায়েতের তরফ থেকে বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সাথে কথা হয়েছে।ওই শ্রমিকের মৃতদেহ নিয়ে আসার পাশাপাশি তার পরিবারকে সর্বতোভাবে সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন মোশালদা পঞ্চায়েতের প্রধান নীলুফার ইয়াসমিন।