দেশের খবর
ইডির বড় পদক্ষেপ অনিল আম্বানির রিলায়েন্সের বিরুদ্ধে, বাজেয়াপ্ত প্রায় 3000 কোটি টাকার সম্পত্তি
ডিজিটাল ডেস্কঃ ব্যবসায়ী অনিল আম্বানির (Anil Ambani) রিলায়েন্স গ্রুপের (Reliance Group) প্রায় ৩০০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate – ED)। ঋণ জালিয়াতি (Loan Fraud) তদন্তের অংশ হিসেবে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (PMLA – Prevention of Money Laundering Act)-এর অধীনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ইডির এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
এই পদক্ষেপের ফলে রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস লিমিটেড (Reliance Communications Limited – RCom) এবং এর প্রাক্তন ডিরেক্টর অনিল আম্বানি বড় ধাক্কা খেয়েছেন।
এর আগে গত অক্টোবর, একটি ইমেল বিবৃতিতে আরকম জানিয়েছিল— “রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার (Reliance Infrastructure)-এর সঙ্গে যুক্ত ১৭ হাজার কোটি টাকার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কোম্পানিটি তার ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মনোযোগী এবং বর্তমানে ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণমুক্ত। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত কোম্পানির মোট সম্পদ প্রায় ১৪,৮৮৩ কোটি টাকা।”
তবে তারও আগে, গত সেপ্টেম্বরে ব্যাঙ্ক অফ বরোদা (Bank of Baroda) স্টক এক্সচেঞ্জে জানিয়েছিল যে অনিল আম্বানি এবং আরকমের ঋণ অ্যাকাউন্টকে ‘জালিয়াতি’ (Fraud) বিভাগে রাখা হয়েছে। কর্পোরেট ইনসলভেন্সি রেজোলিউশন প্রসেস (CIRP)-এ যাওয়ার আগে নেওয়া ঋণের ক্ষেত্রেই এই পদক্ষেপ হয়। যদিও আরকমের দাবি, এই ঋণগুলো দেউলিয়া প্রক্রিয়া শুরুর আগে নেওয়া এবং বর্তমানে তা রেজোলিউশন প্ল্যান বা অন্য আইনি উপায়ে নিষ্পত্তির আওতায় রয়েছে।
বর্তমানে কোম্পানিটি অনীশ নিরঞ্জন নানাবতীর (Anish Niranjan Nanavati) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে অনিল আম্বানি আর পরিচালনা পর্ষদে নেই।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইডি অনিল আম্বানি গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থার ঋণ কেলেঙ্কারি (Loan Scam) তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সংস্থাটি বেশ কিছু ব্যাঙ্কের কাছ থেকে রিলায়েন্স হাউজিং ফিনান্স (Reliance Housing Finance), রিলায়েন্স কমার্শিয়াল ফিনান্স (Reliance Commercial Finance) এবং আরকমের ঋণ সংক্রান্ত বিশদ তথ্য চেয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, এই জালিয়াতিতে জড়িত মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৭,০০০ কোটি টাকা। এর আগে ২০২৪ সালের জুনে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (State Bank of India – SBI) আরকমের ঋণ অ্যাকাউন্টকে জালিয়াতি ঘোষণা করেছিল। চলতি বছরের আগস্টে ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (Bank of India) একই পদক্ষেপ গ্রহণ করে।


