ধর্ম
দিলীপ-মমতা এক ফ্রেমে! জগন্নাথ ধাম কি মিলিয়ে দিল রাজনৈতিক রং?
ডিজিটাল ডেস্কঃ দিঘার জগন্নাথধামের উদ্বোধন ঘিরে বুধবার রাজ্য রাজনীতিতে যেন অন্য এক অধ্যায়ের সূচনা হল। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংঘাত ভুলে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরে হাজির হলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। শুধু তাই নয়, সঙ্গে ছিলেন তাঁর নববিবাহিতা স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদারও। স্বামী-স্ত্রীকে একসঙ্গে মন্দির চত্বরে দেখে সাধারণ দর্শনার্থীদের মধ্যেও উৎসাহের অন্ত ছিল না।
প্রথমে মন্দির পরিদর্শন ও পুজো সারেন দিলীপ ও রিঙ্কু। তারপর সকলকে চমকে দিয়ে, তাঁরা পা বাড়ান রাজ্য সরকারের অস্থায়ী গেস্ট হাউসের দিকে—যেখানে ছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে একসঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটান তাঁরা। বসেন পাশাপাশি। কথা বলেন বেশ কিছুক্ষণ। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দিলীপ ঘোষের এমন ঘনিষ্ঠ সাক্ষাৎ আগে কখনও দেখা যায়নি—তাও আবার নিজের স্ত্রীকে নিয়ে।
আরও পড়ুনঃ রায়গঞ্জের নাবালককে যৌন নিগ্রহের ঘটনায় অভিযুক্তের ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
দীর্ঘদিন ধরে দিলীপ ঘোষ ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কট্টর সমালোচকদের অন্যতম। তাঁর মুখ থেকে ‘তৃণমূল হটাও’ স্লোগান উঠে এসেছে বহুবার। সেই তিনিই আজ মমতার ঘরে? রাজনৈতিক মহলে এই ছবি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অনেকে বলছেন, “এটি কি নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি বড় কোনও রাজনৈতিক মোড়ের সূচনা?” এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষের মন্তব্য ছিল বেশ সাবলীল। তিনি বলেন, “জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের জন্য মুখ্যসচিবের তরফে আমন্ত্রণ পেয়েছি। আমি ধর্মীয় মানুষ, এই পবিত্র দিনে মন্দির দর্শন করতে এসেছি। পুজোর পর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করাটা নিছক সৌজন্যের অঙ্গ।”
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এখানে সৌজন্যের বাইরেও অন্য ইঙ্গিত রয়েছে। দিলীপ ঘোষ বর্তমানে বিজেপির মূল সংগঠন থেকে কিছুটা দূরে। আবার তৃণমূলের পক্ষ থেকেও বিরোধী নেতাদের একাংশকে ‘নরম পথে’ আনার চেষ্টা যে চলছে, সে কথাও নতুন নয়। বিশেষত শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি-তৃণমূল সম্পর্ক যে তলানিতে ঠেকেছে, সেই পটভূমিতে দিলীপ-মমতার এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাৎকে আলাদা করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাচক্রে, এদিন কাঁথিতে শুভেন্দু অধিকারী আয়োজন করেছিলেন ‘সনাতনী সম্মেলন’-এর, যা কার্যত জগন্নাথধাম কর্মসূচির পাল্টা হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কিন্তু দিলীপ সেই সম্মেলনে না গিয়ে দিঘায় যাওয়াকেও অনেকেই বিশেষ বার্তারূপে দেখছেন। তবে দিলীপ ঘোষ এই বিতর্কে জল ঢেলে বলেন, “আমি যেখানে আমন্ত্রণ পেয়েছি, সেখানে গেছি। মন্দির দর্শন আমার প্রাধান্য। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান রাজনীতির ঊর্ধ্বে।”
এদিন দিঘায় দেখা গেল এক অনন্য ছবি—একদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, অন্যদিকে বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি, মাঝে নববিবাহিত দম্পতি রিঙ্কু ও দিলীপ। এক ছবি হাজার শব্দের সমান। আর এই ছবিই আজ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে—”এই কি নতুন কিছু শুরুর ইঙ্গিত?”
