ভাইরাল খবর
ভোররাতে তালা ভেঙে অভিষেকের বাড়িতে তল্লাশি! খবর পেয়েই ছুটে গেলেন মমতা
ডিজিটাল ডেস্কঃ নিয়োগ দুর্নীতি এবং সিআইডি (CID) জেরা সংক্রান্ত একাধিক আইনি মামলার জাঁতাকলে এমনিতেই বিপর্যস্ত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (General Secretary) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর মাঝেই তাঁর কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাড়িতে ভোররাতে শালবনি থানার পুলিশের আকস্মিক তল্লাশি অভিযানকে (Search Operation) কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, শালবনির এক তৃণমূল নেতার অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, দলীয় টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ (Financial Fraud) করেছেন অভিষেকের আপ্তসহায়ক (Personal Assistant) সুমিত রায়। এছাড়া মেদিনীপুরের জমি কেলেঙ্কারিতেও (Land Scam) সুমিতের নাম জড়িয়েছে। সুমিতের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন (Tower Location) ট্র্যাক করে জানা যায়, তিনি অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।
এর পরেই ডিএসপির (DSP) নেতৃত্বে শালবনি থানার একটি বড় পুলিশ দল রাত আড়াইটে নাগাদ কালীঘাট থানায় এসে জেনারেল ডায়েরি (GD) করে। এরপর ভোর তিনটে নাগাদ কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Forces) এবং কলকাতা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিষেকের বাড়ি ঘেরাও করা হয়। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও ভিতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না মেলায়, শেষমেশ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (Disaster Management) ডেকে দরজার তালা ভেঙে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেন তদন্তকারীরা।
এই খবর পাওয়ামাত্রই সাতসকালে গাড়ি চেপে তড়িঘড়ি অভিষেকের বাড়িতে হাজির হন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী (Former Chief Minister) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ভিতরে গিয়ে অভিষেকের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বললেও, সংবাদমাধ্যমের (Media) সামনে কোনো মন্তব্য করেননি।
প্রায় চার ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে সকাল সাতটা নাগাদ পুলিশ বেরিয়ে যায়। পরে ক্ষুব্ধ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, “ওরা তালা ভেঙে পুরো বাড়ি তল্লাশি করেছে। সেই সমস্ত ঘটনার সব রেকর্ড (Record) আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা তদন্তে সবরকমের সহযোগিতা (Cooperation) করেছি।” সই জালিয়াতি ও ডিজে মন্তব্য মামলায় সিআইডি (CID) এবং ইডি (ED) দপ্তরে হাজিরার ঠিক আগেই এই পুলিশি হানা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করল।
