ভাইরাল খবর
এসআইআর কাজের চাপেই কি প্রাণ গেল? শিলিগুড়িতে ফের এক বিএলওর চুরান্ত সিদ্ধান্ত
ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্যে চলা এসআইআর (Special Intensive Revision – SIR in West Bengal) প্রক্রিয়ার কাজের চাপ কেড়ে নিল আরও এক প্রাণ— এমনই অভিযোগ উঠল শিলিগুড়ি (Siliguri) থেকে। সেবকের করোনেশন ব্রিজ (Coronation Bridge, Sevok) থেকে তিস্তা নদীতে (Teesta River) ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন এক বিএলও (BLO – Booth Level Officer)। মৃতের নাম শ্রবণকুমার কাহা। ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।
পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার বিকেলে বাসে করে সেবক এলাকায় পৌঁছন শ্রবণকুমার। কিছুক্ষণ ব্রিজের উপর ঘোরাঘুরি করার পর আচমকাই তিনি তিস্তা নদীতে ঝাঁপ দেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। মংপং থানার (Mongpong Police Station) পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। এই সময়ে নদীতে জল তুলনামূলক কম থাকায় ব্রিজের নিচ থেকেই দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (North Bengal Medical College & Hospital) দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
মৃত শ্রবণকুমার কাহা শিলিগুড়ি পুরনিগমের ১ নম্বর ওয়ার্ডের (Ward No. 1) ধর্মনগরের বাসিন্দা। পেশায় তিনি শিলিগুড়ি হিন্দি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন এবং দেশবন্ধু পাড়ার ৪৭ নম্বর পার্টের বিএলও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর সংসারে রয়েছেন স্ত্রী, বাবা-মা এবং আট ভাই।
পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এসআইআর সংক্রান্ত কাজের অতিরিক্ত চাপ (Work Pressure) তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছিল। স্কুলের দায়িত্বের পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধন, এনিউমারেশন ফর্ম বিলি, শুনানি ও রিপোর্টিং— সব মিলিয়ে চাপ অসহনীয় হয়ে উঠেছিল। সেই চাপ সামলাতে না পেরেই তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি পরিবারের।
খবর পেয়ে হাসপাতালে যান শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। তিনি বলেন, “এসআইআর-এর কাজের চাপ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানানো হয়েছে। এভাবে একের পর এক মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।” এই মৃত্যুকে ঘিরে তৃণমূল নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় যুক্ত কর্মীদের উপর চাপ নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
