৯৯.৯৯ শতাংশ পেয়েও ডাক্তার হতে চাননি, মেডিক্যালে ভর্তি হওয়ার দিনই আত্মঘাতী তরুণ
Connect with us

আত্মহত্যা

৯৯.৯৯ শতাংশ পেয়েও ডাক্তার হতে চাননি, মেডিক্যালে ভর্তি হওয়ার দিনই আত্মঘাতী তরুণ

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ যেখানে অনেকের কাছে ডাক্তার (Doctor) হওয়া স্বপ্নের মতো, সেখানেই এক তরুণের কাছে তা যেন এক বিষময় যাত্রা। মহারাষ্ট্র (Maharashtra)-র চন্দ্রপুর জেলার নবওয়ারগাঁও গ্রামের ১৯  বছরের অনুরাগ অনিল বোরকার (Anurag Anil Borkar) সেই যাত্রার শুরুতেই থেমে গেলেন চিরতরে। মঙ্গলবার, মেডিক্যালে (Medical) ভর্তি হওয়ার দিন সকালেই আত্মঘাতী (Suicide) হন এই তরুণ।

নিট ইউজি ২০২৫ (NEET UG 2025) পরীক্ষায় অনুরাগ অর্জন করেছিলেন ৯৯.৯৯ পার্সেন্টাইল, অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক (All India Rank) ছিল ১৪৭৫ (OBC ক্যাটাগরি)। ফলে গোরখপুর মেডিক্যাল কলেজে (Gorakhpur Medical College) তাঁর এমবিবিএস (MBBS) ভর্তি প্রায় নিশ্চিত ছিল। পরিবারে খুশির আবহ, কিন্তু অনুরাগের মনের ভিতরে চলছিল এক অদৃশ্য লড়াই।

স্থানীয় সূত্রের খবর, গোরখপুরে যাওয়ার জন্য যেদিন রওনা হওয়ার কথা ছিল, সেই মঙ্গলবার সকালেই নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দেন অনুরাগ। পরিবারের সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে (Hospital) নিয়ে গেলেও বাঁচানো যায়নি। ঘর থেকে পাওয়া গেছে একটি সুইসাইড নোট (Suicide Note)। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও সেই চিঠির বিষয়বস্তু আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে সূত্র বলছে—চিরকুটে অনুরাগ স্পষ্ট লিখেছেন, তিনি কখনওই ডাক্তার হতে চাননি।

পরিবারের সদস্যদের মতে, ছোটবেলা থেকেই অনুরাগ অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র (Meritorious Student)। তবে তাঁর নিজের ইচ্ছা ছিল অন্য কিছু করার। পরিবার ও সমাজের চাপে দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন তিনি। এমনকী, অনিচ্ছা সত্ত্বেও মেডিক্যালে ভর্তির প্রস্তুতি চলছিল বলে জানা গেছে।

Advertisement
ads

পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। পরিবারের সদস্য ও অনুরাগের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ (Interrogation) করা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। আত্মহত্যার সঠিক কারণ জানার চেষ্টা চলছে।

এই অকালমৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, “এত বড় প্রতিভা এভাবে ঝরে যাবে, ভাবতেই পারছি না।”

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “আজকের সমাজে প্রতিযোগিতা (Competition), পারফরম্যান্স এবং পরিবার-সমাজের প্রত্যাশার চাপে অনেক তরুণ-তরুণী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে। এই ঘটনার মাধ্যমে ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব ঠিক কতটা।”

Advertisement
ads