ভাইরাল খবর
গ্রাম দখলের লক্ষ্যে বিজেপির ‘গ্রাম চলো’ কর্মসূচি পুনরায় শুরু, শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণ
ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলা দখলের লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে বিজেপি ফের শুরু করতে চলেছে ‘গ্রাম চলো’ কর্মসূচি। দলের রাজ্য নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই উপলব্ধি করেছে, শুধুমাত্র শহরাঞ্চলে সংগঠন শক্তিশালী হলেও গ্রামাঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে সমানে সমানে টক্কর দেওয়া সম্ভব নয়। ২০২৪-এর নির্বাচনে ছয়টি আসন কমে যাওয়ার পর বিজেপি নেতৃত্ব এ বিষয়ে আরও গভীরভাবে ভাবনাচিন্তা করছে।
এর আগের নির্বাচনে যেভাবে শহুরে এলাকায় বিজেপির শক্তি দৃশ্যমান ছিল, সেভাবে গ্রামাঞ্চলে সংগঠন দুর্বলতা ধরা পড়েছে। ‘গ্রাম চলো’ কর্মসূচি মূলত সেই সমস্যা সমাধানের জন্যই শুরু হয়েছিল। যদিও গতবারের কর্মসূচি খুব একটা সফল হয়নি, এবার বিজেপি উচ্চপর্যায়ের নেতাদের গ্রামমুখী করতে চাইছে, যেন সেখানে গিয়ে সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। ২০২৪-এর নির্বাচনে হারের ময়নাতদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, বিজেপি শহুরে এলাকায় তৃণমূলের সঙ্গে টক্কর দিতে পারলেও গ্রামাঞ্চলে তার সংগঠন টিকে নেই।
আরও পড়ুনঃ ভোটের আগেই ‘ভূত’ ধরতে অভিযান, তৃণমূলের নিশানায় ভুয়ো ভোটার-বিজেপি
পূর্বে এই কর্মসূচিতে পুরোনো এবং নতুন মণ্ডল সভাপতিরা, ব্লক, পঞ্চায়েত সদস্য, এবং পুরসভার কাউন্সিলররা গ্রামপরিদর্শন করেন। কিন্তু তাতে মন্দ ফল মেলেনি। প্রায় ১৩০০ মণ্ডল কমিটির মধ্যে অধিকাংশই নামমাত্র এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়। গ্রামাঞ্চলের জনগণের সাথে তেমন যোগাযোগ গড়ে উঠেনি, যা দলের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে এবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে, প্রথম সারির নেতারা—যেমন সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী, অগ্নিমিত্রা পাল, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং লকেট চট্টোপাধ্যায়—এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তারা সরাসরি গ্রামাঞ্চলে গিয়ে জনগণের সঙ্গে কথাবার্তা বলবেন এবং তাদের সমস্যা নিয়ে কাজ করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কর্মসূচি দলের অন্দরের সংগঠন শক্তি পরিমাপ করতে সহায়ক হবে, তবে প্রশ্ন উঠছে, এত বড় নেতারা নিজস্ব কর্মসূচি গ্রহণ করে গ্রামাঞ্চলে দলের অবস্থান কতটা শক্তিশালী করবেন। বিজেপির গ্রাম চলো কর্মসূচি আগামী নির্বাচনে দলের ভিতরের শক্তি এবং সংগঠন শক্তি পরিমাপ করার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
