ভাইরাল খবর
ভোটের আগেই ‘ভূত’ ধরতে অভিযান, তৃণমূলের নিশানায় ভুয়ো ভোটার-বিজেপি
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তুলতে আগেভাগেই কোমর বেঁধে মাঠে নামল তৃণমূল। রাজ্যজুড়ে প্রায় এক লক্ষ কর্মী শুরু করেছেন ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখে ‘ভুয়ো’ নাম চিহ্নিত করার কাজ। এই ‘ভোটার শুদ্ধিকরণ’ কর্মসূচিতে সহায়তা করছে ‘দিদির দূত’ নামের একটি অ্যাপ, যেখানে বুথভিত্তিক এজেন্টরা নিয়মিত আপডেট দিচ্ছেন সন্দেহভাজন ভোটারদের তথ্য।
শুক্রবার উত্তর ২৪ পরগনার একটি সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের শাসক দলের একাধিক নেতৃত্ব অভিযোগ করেন, ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মেরুকরণের চেষ্টায় নেমেছে বিজেপি। মুখ খোলেন সাংসদ ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মন্ত্রী পার্থ ভৌমিক, ব্রাত্য বসু, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো তৃণমূল শীর্ষ নেতারা।
আরও পড়ুনঃ ভাঙড়ে ফের অশান্তি, চক মরিচায় তৃণমূল কার্যালয়ে আগুন, অভিযোগ আইএসএফের দিকে
“রাজ্যে দাঙ্গা বাধানোর ছক”
বিজেপির বিরুদ্ধে কার্যত অভিযোগের বাণ ছুঁড়ে ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, “বাংলার বদনাম করতে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে বিজেপি। বহিরাগত অশুভ শক্তিকে ব্যবহার করে, ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়ে রাজ্যে দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা হচ্ছে।” তাঁর দাবি, “হাবরার মতো এলাকায় এক একটি পার্টে ৩০ থেকে ৩০০ জন পর্যন্ত ভুয়ো ভোটারের হদিস মিলেছে। শুধু হাবরাতেই এমন প্রায় ২৬ হাজার নাম চিহ্নিত হয়েছে।”
ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টা
মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, “রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার পর বিজেপির কাছে আর কোনও রাজনৈতিক অস্ত্র নেই। তাই এখন ধর্মের বিভাজন ঘটিয়ে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।” তিনি দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কে আমিষ বিক্রি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে ‘মধ্যযুগীয় ফতোয়া’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর কথায়, “এই ধরণের পদক্ষেপ বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতি ও পরিচয়ের উপর আঘাত।”
“মমতার উন্নয়নই বিজেপির ভয়”
মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দাবি করেন, বাংলার নারীদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক প্রকল্প রাজ্যে মহিলাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও নিরাপত্তার বাতাবরণ তৈরি করেছে। তাই ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি এখানে চলবে না।
বুথভিত্তিক বৈঠক শুরু
সাংবাদিক বৈঠকের পরই বারাসত ও বারাকপুর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল নেতৃত্ব মধ্যমগ্রাম ও টিটাগড় জেলা কার্যালয়ে ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখতে পৃথক বৈঠকে বসেন। জানা গিয়েছে, আসন্ন ভোটের আগে বুথস্তরে ভোটার যাচাই অভিযান জোরকদমে চালাবে শাসকদল।
রাজ্যজুড়ে ভোট সুরক্ষার এই উদ্যোগে নিজেদের ‘আগাম প্রস্তুতি’র মাধ্যমে বিজেপিকে একপ্রকার চাপে ফেলতেই উদ্যোগী হয়েছে তৃণমূল, এমনটাই রাজনৈতিক মহলের মূল্যায়ন।
