কলকাতা
মেসিকে দেখতে এসে স্বপ্নভঙ্গ! VIP ভিড়ে আড়াল তারকা, ক্ষোভে ফেটে পড়ল যুবভারতী স্টেডিয়াম
ডিজিটাল ডেস্ক: হাজার হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কেটেছিলেন দর্শকরা। ডিসেম্বরের শীত উপেক্ষা করে (December cold) কাকভোরে (early morning) যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (Yuba Bharati Stadium) ভিড় জমিয়েছিলেন হাজারো ফুটবলপ্রেমী। একটাই আশা—লিয়োনেল মেসিকে (Lionel Messi) এক ঝলক দেখা। কিন্তু বাস্তবে সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে যায় অধিকাংশ দর্শকের। VIP ও আমন্ত্রিতদের ভিড়ে কার্যত আড়াল হয়ে যান আর্জেন্টিনার তারকা।
শনিবার নির্ধারিত সময়েই যুবভারতীতে পৌঁছন মেসি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ (Luis Suarez) ও রদ্রিগো ডি’পল (Rodrigo De Paul)। মাঠে নামার পর হাসিমুখে দর্শকদের দিকে হাত নাড়লেও গ্যালারি থেকে স্পষ্টভাবে তাঁকে দেখা যায়নি। মেসির চারপাশে প্রায় ৫০ জনের নিরাপত্তা ও আয়োজকদের বলয় তৈরি হওয়ায় গ্যালারির দর্শকরা এক মুহূর্তের জন্যও তাঁকে দেখতে পাননি।
চড়া দামে (high-priced tickets) টিকিট কেটে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরেও মেসির এক ঝলক না পেয়ে গ্যালারিতে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। ‘We Want Messi’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। নির্ভরযোগ্য ভরসা ছিল স্টেডিয়ামের তিনটি জায়ান্ট স্ক্রিন (giant screen), কিন্তু সেখানেও স্পষ্ট ছবি দেখা যায়নি। পরিস্থিতি আঁচ করে নির্ধারিত সময়ের আগেই মেসিকে মাঠ থেকে বের করে নেন আয়োজকরা।
এদিন প্রায় ২৩ মিনিট (23 minutes) মাঠে ছিলেন মেসি। সকাল ১১টা ৫২ মিনিট নাগাদ তাঁকে স্টেডিয়াম থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। তখনও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শাহরুখ খান বা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় স্টেডিয়ামে পৌঁছননি। মেসি বেরিয়ে যেতেই দর্শকদের ক্ষোভ চরমে পৌঁছয়।
এরপরই শুরু হয় বিশৃঙ্খলা (chaos)। গ্যালারি থেকে বোতল ছোড়া হয়, মেসির ছবি দেওয়া ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়। ব্যারিকেড (barricade) ভেঙে কয়েকশো দর্শক মাঠে ঢুকে পড়েন। গ্যালারির সিট, হোর্ডিং ছুড়ে মারা হয় মাঠের ভিতরে। ভাঙচুরের শিকার হয় প্লেয়ারদের টানেল (players’ tunnel) ও ক্যানোপি (canopy)।
এই সময় গ্যালারিতে পর্যাপ্ত পুলিশি উপস্থিতি (police presence) চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ। হতাশা ও ক্ষোভ মিলেমিশে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন ধীরে ধীরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। লিয়োনেল মেসিকে এক ঝলক দেখার স্বপ্ন নিয়ে আসা হাজারো ভক্ত শেষ পর্যন্ত ফিরে যান চরম হতাশা ও ক্ষোভ নিয়ে।


