বন্ধুকে খুন করে বাড়ি ফিরে স্বীকারোক্তি, পরিবারের সঙ্গে পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ
Connect with us

খুন

বন্ধুকে খুন করে বাড়ি ফিরে স্বীকারোক্তি, পরিবারের সঙ্গে পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ বন্ধুত্বে ফাটল ধরেছিল কিশোর বয়সেই। কিন্তু তার পরিণতি এমন ভয়াবহ হবে, তা ভাবতে পারেনি কেউই। দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশনে (Dakshineswar Metro Station) সহপাঠীকে ছুরি মেরে খুন করার পর বাড়ি ফিরে নিজেই বাবা-মাকে জানায়, ‘‘মেরে এসেছি’’—এই অকপট স্বীকারোক্তি শুনে স্তম্ভিত হয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। এরপরই তারা সিদ্ধান্ত নেন এলাকা ছাড়ার। পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা তৈরি হয়। গন্তব্য ছিল বিহার (Bihar)। তবে শেষরক্ষা হয়নি। পথে হাওড়া স্টেশন (Howrah Station) থেকেই গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত নাবালককে। পুলিশের জালে তার বাবা, মা ও বোনও।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত নাবালক আলমবাজারের (Aalambazar) বাসিন্দা এবং বাগবাজার বয়েজ স্কুলের (Bagbazar Boys’ School) একাদশ শ্রেণির (Class 11) ছাত্র। বাণিজ্য বিভাগে (Commerce) পড়ত সে। সবার চোখে ভালো ছাত্র, শান্ত স্বভাব, পড়াশোনায় মনোযোগী। অথচ সেই কিশোরই বন্ধুকে খুনের পর বাবা-মাকে সব জানায়।
তারপর পরিবারের সবাই মিলে পালানোর পরিকল্পনা করে। একসঙ্গে বাড়ি ছেড়ে সোজা চলে যায় হাওড়া স্টেশনে। সেখান থেকে ট্রেনে চেপে বিহারে (Begusarai, Bihar) যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ আগে থেকেই হাওড়া স্টেশনে অপেক্ষা করছিল। সেখান থেকেই ধরা পড়ে কিশোর সহ তার পরিবারের সদস্যরা।

ঘটনার তদন্তে উঠে আসছে নানান চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, নিহত কিশোর মনোজিতের (Manojit) সঙ্গে অভিযুক্তের বন্ধুত্ব ছিল বহুদিনের। কিন্তু সম্প্রতি তাদের এক পরিচিত কিশোরীকে কটূক্তি (Offensive Comment) করা নিয়ে মনোমালিন্য শুরু হয়। গত ১০ সেপ্টেম্বর তাদের মধ্যে হাতাহাতিও হয়। তখন সবাই ভেবেছিল বিষয়টি মিটে গেছে। কিন্তু শুক্রবার দুপুরে স্কুল থেকে ফেরার পথে মেট্রো স্টেশনে ফের ঝগড়ায় জড়ায় তারা। সেই বিবাদ মুহূর্তেই রক্তাক্ত পরিণতি নেয়—ছুরি দিয়ে একের পর এক কোপে খুন হয় মনোজিত।

Advertisement
ads

অভিযুক্ত কিশোরের প্রতিবেশীদের দাবি, সে খুব ভালো ছেলে ছিল। কারও সঙ্গে তেমন মেলামেশা করত না। দিনের বেশিরভাগ সময় বই নিয়েই ব্যস্ত থাকত। এমন একটি ছেলের কাছ থেকে এমন ঘটনা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। প্রতিবেশীদের একজন বলেন, ‘‘ছেলেটার ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে গেল। পরিবারটাই ভেঙে গেল।’’

এখন তার ফাঁকা বাড়ির সামনে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ বাহিনী, যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। পরিবার ও সমাজের চোখে ‘ভালো ছেলে’র মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক ভয়ঙ্কর সত্য প্রকাশ্যে এসেছে।

Continue Reading
Advertisement