খুন
সহপাঠীকে একাধিক ছুরির কোপ! ব্যক্তিগত বিবাদে রক্তাক্ত মেট্রো চত্বর
ডিজিটাল ডেস্কঃ পরিচিত কিশোরীকে কটূক্তির (Obscene Remark) অভিযোগ থেকে সূত্রপাত বিবাদের, আর সেই বিবাদই রূপ নিল মর্মান্তিক খুনে। শুক্রবার দুপুরে দক্ষিণেশ্বর (Dakshineswar) মেট্রো স্টেশনে (Metro Station) ছুরি (Knife) দিয়ে একের পর এক আঘাতে সহপাঠীকে খুন করল এক নাবালক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের দাবি, ব্যক্তিগত সংঘাতই এই খুনের মূল কারণ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত নাবালককে (Juvenile) শনিবার আদালতে পেশ করা হবে। তদন্তের প্রয়োজনে তাকে হেফাজতে (Custody) নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, বুধবার এক পরিচিত কিশোরীকে ঘিরে কটূক্তি করে নিহত মনোজিৎ। তা নিয়েই বিবাদ বাধে তার এক সহপাঠীর সঙ্গে। ঘটনার দিন হাতাহাতিও (Scuffle) হয় তাদের মধ্যে। তবে তারপরও তারা একসঙ্গে স্কুলে (School) যাতায়াত করছিল।
শুক্রবার স্কুল ছুটির পর শ্যামবাজার (Shyambazar) থেকে একসঙ্গে মেট্রোতে ওঠে মনোজিৎ ও অভিযুক্ত সহপাঠী। সঙ্গে ছিল আরও কয়েকজন বন্ধু। ট্রেনের মধ্যেও দু’জনের মধ্যে ঝগড়া চলছিল। দক্ষিণেশ্বর স্টেশনের দোতলায় এক্সিট গেট দিয়ে বেরিয়ে খাবারের স্টলের কাছে ফের শুরু হয় উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। সেই সময় বাকি দুই বন্ধু কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিল।
অভিযোগ, আচমকাই অভিযুক্ত ব্যাগ থেকে ধারালো অস্ত্র বার করে মনোজিতের ঘাড়ে, বাম কাঁধের নিচে ও বুকে একাধিক কোপ মারে এবং সঙ্গে সঙ্গে চম্পট দেয়।
রক্তাক্ত অবস্থায় মনোজিতকে বরানগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে (Baranagar State General Hospital) নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
তদন্তকারীদের মনে প্রশ্ন, এটি কি শুধুই তাৎক্ষণিক উত্তেজনা, নাকি ছিল পূর্ব পরিকল্পিত খুন?
সঙ্গে উঠেছে মেট্রোর নিরাপত্তা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন—এক ছাত্র কীভাবে ছুরি নিয়ে মেট্রোতে উঠল? স্ক্যানারে (Scanner) ধরা পড়ল না কেন? স্টেশনে ছিল না কেন আরপিএফ (RPF)? সবার সামনে কীভাবে একজনকে ছুরি মেরে দিব্যি পালিয়ে গেল অভিযুক্ত?
মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনা ঘটেছে নন-টিকিটিং এলাকায় (Non-ticketing Zone), তাই মেট্রোর নিয়মিত যাতায়াতে প্রভাব পড়েনি। তবে দিনেদুপুরে এমন খুনের ঘটনা মেট্রো চত্বরে এই প্রথম বলেই দাবি কর্তৃপক্ষের।


