যাত্রী সুরক্ষার নামে লোকো পাইলটদের মানবাধিকারে কোপ? রেলের নতুন নির্দেশ ঘিরে বিতর্ক
Connect with us

রাজ্যের খবর

যাত্রী সুরক্ষার নামে লোকো পাইলটদের মানবাধিকারে কোপ? রেলের নতুন নির্দেশ ঘিরে বিতর্ক

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ ট্রেন চালানোর সময় ক্ষুধা লাগলেও খাবার খেতে পারবেন না লোকো পাইলটরা। এমনকী, প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেওয়ার প্রয়োজন হলেও তা মেনে নেওয়া চলবে না— এমনই এক চমকপ্রদ ও বিতর্কিত নির্দেশ জারি করেছে রেল বোর্ড। যাত্রী নিরাপত্তার যুক্তিতে জারি হওয়া এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসতেই রেল কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

সূত্রের খবর, গত ৪ এপ্রিল মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি স্ট্যান্ডিং কমিটি রেল বোর্ডে একটি রিপোর্ট জমা দেয়, যেখানে যাত্রী সুরক্ষার স্বার্থে ট্রেন চলাকালীন লোকো পাইলটদের ব্যক্তিগত কার্যকলাপ সীমিত করার সুপারিশ করা হয়। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই রেল বোর্ড দেশের সবকটি রেল জোনের জেনারেল ম্যানেজারদের কাছে একটি নির্দেশিকা পাঠায়।

আরও পড়ুনঃ সীমান্তে জুলুম! ছাগল চরাতে গিয়ে বিএসএফ-এর মারধরের শিকার মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ট্রেন চলাকালীন লোকো পাইলটরা যাতে কোনো অবস্থাতেই ক্যাবিন ছেড়ে না যান এবং মাঝপথে খাওয়া বা শৌচাগার ব্যবহার না করেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। তবে এই নির্দেশ ঘিরেই শুরু হয়েছে জোরদার বিতর্ক।

Advertisement
ads

রেল কর্মীদের সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া লোকো রানিং স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন’ কড়া ভাষায় এই নির্দেশের প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনের অভিযোগ, এই নির্দেশ শুধু অমানবিকই নয়, বাস্তব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। বহু লোকো পাইলট রয়েছেন যাঁরা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তাঁদের জন্য নিয়মিত নির্দিষ্ট সময় অন্তর খাবার খাওয়া বাধ্যতামূলক। আবার অনেকেই চিকিৎসাজনিত কারণে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ পান। এই ধরনের স্বাস্থ্যগত চাহিদা অগ্রাহ্য করে নির্দেশ জারি করলে পাইলটদের জীবন যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে, তেমনি বিপদের মুখে পড়তে পারেন যাত্রীরাও।

সংগঠন সাফ জানিয়ে দিয়েছে— এই নির্দেশ প্রত্যাহার না হলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন। তাদের মতে,এই নির্দেশ শুধু পাইলটদের মর্যাদাহানিই করছে না, বরং কর্মপরিবেশকে আরও প্রতিকূল করে তুলছে।

এদিকে যাত্রীদের একাংশও এই নির্দেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাঁদের মতে, “একজন চালক যদি ট্রেন চলাকালীন অসুস্থ বোধ করেন বা হঠাৎ করে কোনও ব্যক্তিগত প্রয়োজন তৈরি হয়, অথচ তা পূরণ করতে না পারেন— তাহলে তো দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যাবে!”

রেল বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই নির্দেশিকাকে ঘিরে কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে রেল পরিষেবা এবং যাত্রী নিরাপত্তার প্রশ্নে এমন সিদ্ধান্ত যে নয়া বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। আগামী দিনে রেল কর্মীদের
প্রতিবাদ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement