দেশের খবর
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ১৪ বছরের ভারতীয় বংশোদ্ভূতের কৃতিত্বে মুগ্ধ বাইডেন-ওবামা
ডিজিটাল ডেস্কঃ বয়স মাত্র ১৪, কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অ্যাপ বানিয়ে গোটা দুনিয়ার নজর কাড়লেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিশোর সিদ্ধার্থ নন্দ্যালা। টেক্সাসের ডালাস শহরের এই কিশোরের বানানো অ্যাপ ‘সার্কেডিয়ান এআই (Circadian AI)’-এর মাধ্যমে মাত্র ৭ সেকেন্ডে হৃদস্পন্দনের শব্দ বিশ্লেষণ করে হৃদরোগ শনাক্ত করা সম্ভব! এই যুগান্তকারী প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই ব্যবহার করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে।
অ্যাপটি এতটাই কার্যকর যে প্রশংসা কুড়িয়েছেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছ থেকে। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু-র সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন সিদ্ধার্থ, যিনি তাঁর উদ্ভাবনে মুগ্ধ হয়ে শুভেচ্ছা জানান। ভারতের গুন্টুর ও বিজয়ওয়াড়া সরকারি হাসপাতালে এই অ্যাপের মাধ্যমে পরীক্ষা চালানো হয়। গুন্টুরে ৫০৫ জন রোগীর মধ্যে ১০ জন এবং বিজয়ওয়াড়ায় ৯৯২ জন রোগীর মধ্যে ১৯ জনের হৃদরোগ শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে ECG ও ইকো স্ক্যান করে সেই রিপোর্ট নিশ্চিত করেছেন কার্ডিওলজিস্টরা।
আরও পড়ুনঃ পরীক্ষা দিতে এসে নিখোঁজ ছাত্রী! প্রধান শিক্ষকের ঘরের সামনে ধর্ণা
মাত্র সাত মাসে অ্যাপটি তৈরি করেছেন সিদ্ধার্থ। প্রথমে হৃদস্পন্দনের শব্দসংক্রান্ত ডেটা সংগ্রহ, তারপর মডেল ট্রেনিং এবং হাসপাতাল পর্যায়ের পরীক্ষার পর চূড়ান্ত রূপ পায় সার্কেডিয়ান এআই। তাঁর লক্ষ্য, প্রযুক্তিকে এমনভাবে কাজে লাগানো যাতে সেটি বাস্তব সমস্যার সমাধান করে, বিশেষত স্বাস্থ্য পরিষেবায়। সিদ্ধার্থ ইতিমধ্যেই ওরাকেল ও ARM-এর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিশ্বের সবচেয়ে কমবয়সী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পেশাদার। তাঁর অ্যাপ ইতিমধ্যেই ১৫ হাজারের বেশি আমেরিকান এবং ৭০০-র বেশি ভারতীয় রোগীর উপর সফলভাবে ব্যবহার হয়েছে। প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধানে প্রযুক্তির ব্যবহার শেখাতে STEM IT নামের একটি স্টার্টআপও চালু করেছেন সিদ্ধার্থ। তিনি মনে করেন, শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বাস্তব জীবনে উদ্ভাবনের প্রয়োগ শেখানো।
গলফ ও দাবায় দক্ষ সিদ্ধার্থ মনে করেন, এই খেলাগুলি তাঁর মনঃসংযোগ ও সিদ্ধান্তগ্রহণে সহায়ক হয়েছে। তাঁর প্রেরণা ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ড. এ পি জে আব্দুল কালাম। বলেন, “উদ্ভাবনই অগ্রগতির হৃদস্পন্দন। কল্পনাকে রূপান্তরে নিয়ে যাও। নিজের বস নিজে হও, স্বপ্নকে বাস্তব করো।” তাঁর বক্তব্যে একটাই বার্তা স্পষ্ট—প্রযুক্তি শুধু ব্যবসা নয়, তা প্রাণ বাঁচাতেও পারে। এই বয়সে এমন আবিষ্কার নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার উৎস—না শুধুই কিশোরদের জন্য, বরং সবার জন্যই।
