রাজ্যের খবর
‘দিদি আছেন’ বলেও শান্ত নয় জনতা, ওয়াকফ ইস্যুতে উত্তাল সংখ্যালঘু মহল
ডিজিটাল ডেস্কঃ ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ অব্যাহত। এবার সেই উত্তেজনার আঁচ এসে পড়ল বীরভূমের মুরারইতেও। বুধবার সেখানে তৃণমূলের কর্মসূচি চলাকালীন বিক্ষোভকারীদের মুখে শোনা গেল স্পষ্ট স্লোগান— “স্যালাইন এমপি-কে মানি না, মানব না।”
যদিও স্লোগানে সরাসরি কোনও সাংসদের নাম নেওয়া হয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলের অনুমান, এই ইঙ্গিত বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়-এর দিকেই। কারণ, ৩ এপ্রিল সংসদে ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাসের দিন তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং স্যালাইন চলছিল বলে তিনি সংসদে উপস্থিত হতে পারেননি।
তৃণমূলের একাংশ কর্মী সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন বলেই মনে করা হচ্ছে। দলের অন্দরেই এই বিষয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন আগেই। এবার সেই অসন্তোষ মুরারইয়ের রাস্তায় সরব হয়ে উঠল।
আরও পড়ুনঃ পথেই পথ খুঁজবে শিক্ষক সমাজ, চাকরিহারাদের ডাকে আজ রাজপথে প্রতিবাদ
প্রসঙ্গত, মুরারই এলাকা থেকেই গতবার সবচেয়ে বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন শতাব্দী রায়। ফলে এখানকার প্রতিবাদকে গুরুত্ব দিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও। এদিকে ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা। মঙ্গলবার জঙ্গিপুরে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগানো হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের তরফে জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা (পুরনো ১৪৪ ধারা)।
তবে এই উত্তপ্ত আবহেই বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে সংখ্যালঘু সমাজের উদ্দেশে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আপনারা কষ্ট পেয়েছেন, আমি জানি। তবে চিন্তা করবেন না, দিদি রয়েছে। বাংলায় বিভাজনের রাজনীতি চলবে না। আমি আপনাদের সম্পত্তির সুরক্ষা দেব।”
ওয়াকফ আইন ঘিরে চলমান এই অস্থিরতা কোন দিকে মোড় নেয়, সে দিকে এখন তাকিয়ে গোটা রাজ্য।
