ডিজিটাল ডেস্কঃ কলকাতায় ফের একবার মরণোত্তর অঙ্গদানের উদাহরণ গড়ল মানবতার অনন্য নজির। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পর, ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর দান করা হৃৎপিণ্ড ও দুটি কিডনি নতুন জীবন দিল তিনজন রোগীকে। শনিবার সিএমআরআই হাসপাতালে সফলভাবে এই অঙ্গপ্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়।
খড়দহের বাসিন্দা ওই কিশোরী দীর্ঘদিন ধরে ভেন্টরিকুলার ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত ছিল। ২৮ মার্চ, অসুস্থতার চরম অবনতি ঘটলে তাকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে স্থানান্তরিত করা হয় সিএমআরআই হাসপাতালে। সেখানে শুক্রবার চিকিৎসকরা তাঁকে ব্রেন ডেথ ঘোষণা করেন।
এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিশোরীর পরিবারের কাছে মরণোত্তর অঙ্গদানের প্রস্তাব দেয়। কিশোরীর পরিবার সম্মত হলে শুরু হয় অঙ্গ সংরক্ষণের প্রক্রিয়া। মানবিকতার নিদর্শনস্বরূপ কিশোরীকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ‘গার্ড অফ অনার’ প্রদান করে।
আরও পড়ুনঃ‘কাগজে নীতি, বাস্তবে মৃত্যু’ — বিরল রোগে শিশু মৃত্যুকে ঘিরে ক্ষোভ চিকিৎসা মহলে
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, কিশোরীর হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপন করা হয়েছে মেডিকা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের এক রোগীর দেহে। একটি কিডনি পাঠানো হয় কমান্ড হাসপাতালে, আর অন্যটি যায় মুকুন্দপুরের মণিপাল হাসপাতালে। যদিও দাতার ফুসফুস প্রতিস্থাপনের যোগ্য ছিল না, তবে লিভার ভালো অবস্থায় থাকলেও উপযুক্ত গ্রহীতা পাওয়া যায়নি।
চিকিৎসকদের মতে, শনিবার বিকেল থেকে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং সমস্ত অঙ্গ গ্রিন করিডোরের মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়। এবছরে এটি রাজ্যে তৃতীয় মরণোত্তর অঙ্গদান।চিকিৎসক এবং সমাজকর্মীদের মতে, এই ঘটনার মাধ্যমে সমাজে মরণোত্তর অঙ্গদানের প্রতি আরও বেশি সচেতনতা ও উৎসাহ তৈরি হবে। কিশোরীর পরিবারকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন সকলেই।