দেশের খবর
কাশির সিরাপ খেয়ে ১১ শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসক গ্রেফতার কোল্ডরিফ কাণ্ডে
ডিজিটাল ডেস্কঃ দেশজুড়ে কফ সিরাপ (Cough Syrup) নিয়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ‘কোল্ডরিফ’ (Coldrelief) নামক একটি নির্দিষ্ট কাশির সিরাপ খেয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ১১ জন শিশুর। ঘটনার পরই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক (Health Ministry) সতর্কতা জারি করেছে এবং তামিলনাড়ু (Tamil Nadu) রাজ্যে ওই সিরাপের বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে এবার এক চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি ওই বিষাক্ত কাশির সিরাপ প্রেসক্রাইব (Prescribe) করেছিলেন। ধৃত চিকিৎসকের নাম প্রবীণ সোনি (Praveen Soni)। তিনি মধ্যপ্রদেশ (Madhya Pradesh) এর বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, মৃত বেশিরভাগ শিশুর চিকিৎসা ওই চিকিৎসকের ক্লিনিকেই হয়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়া (Chhindwara) জেলা থেকে। সেখানেই প্রথম এক শিশুর মৃত্যু হয় কিডনি বিকল হয়ে। পরিবারের অভিযোগ ছিল, শিশুটি চিকিৎসকের দেওয়া একটি কাশির সিরাপ খেয়েই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং মৃত্যুর আগে তার শরীরে ধরা পড়ে ডাইথিলিন গ্লাইকল (Diethylene Glycol)—যা একটি অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক।
চেন্নাইয়ের (Chennai) ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে (Drug Testing Laboratory) পরীক্ষার পর ‘কোল্ডরিফ’ সিরাপকে “মানসম্মত নয়” বলে ঘোষণা করে তামিলনাড়ু ড্রাগ কন্ট্রোল ডিরেক্টরেট (Drug Control Directorate)। এরপরই সিরাপ প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘শ্রীসান ফার্মাসিউটিক্যালস’ (Shreesan Pharmaceuticals)-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে মধ্যপ্রদেশ সরকার।
সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, সিরাপে ব্যবহৃত ডাইথিলিন গ্লাইকল শিশুদের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক, বিশেষ করে কিডনির উপর। এরই জেরে একের পর এক শিশুমৃত্যু ঘটেছে বলে অভিযোগ।
ঘটনার জেরে জাতীয় স্তরে কফ সিরাপের গুণমান ও উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই ধরনের ওষুধ নিয়ে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
