দেশের খবর
মুসলিমবিহীন গ্রাম মুস্তফাবাদের নাম বদলে ‘কবীর ধাম’ ঘোষণা যোগীর
ডিজিটাল ডেস্কঃ “এই গ্রামে একজনও মুসলমান (Muslim) বাস করেন না। তাই এ গ্রামের নাম বদলে রাখব কবীর ধাম (Kabir Dham)। আপনারা গ্রাম থেকে প্রস্তাব পাঠালেই আমি সরকারি বিজ্ঞপ্তি (Government Notification) জারি করব।”
এভাবেই উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) ঘোষণা করলেন লখিমপুর খেরি (Lakhimpur Kheri) জেলার মুস্তফাবাদ (Mustafabad) গ্রামের নাম পরিবর্তনের (Name Change) সিদ্ধান্ত।
যোগী সরকারের রাজ্যে গ্রাম ও শহরের নাম বদল এখন নতুন কিছু নয়। তার আগেও বিজেপি (BJP) সরকার ফৈজাবাদের (Faizabad) নাম বদলে অযোধ্যা (Ayodhya) এবং এলাহাবাদের (Allahabad) নাম বদলে প্রয়াগরাজ (Prayagraj) করেছে। সরকার দাবি করেছিল, মুসলিম শাসকেরা (Muslim Rulers) সনাতনী (Traditional) নাম পরিবর্তন করেছিলেন— তাই পুরনো নাম পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে।
তবে এবার মুখ্যমন্ত্রীর যুক্তি ভিন্ন। তাঁর বক্তব্য, “এ গ্রামে মুসলিম কেউ বাস করেন না, তাই নাম হবে কবীর ধাম।”
কবীর (Kabir) ছিলেন প্রাচীন ভারতের এক বিখ্যাত কবি ও দার্শনিক (Philosopher) যিনি হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির (Communal Harmony) প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। কবীর নামটি এসেছে আরবি শব্দ ‘আল-কবির’ (Al-Kabir) থেকে, যার অর্থ ‘মহান’। বারাণসীর (Varanasi) লহরতলাব এলাকায় এক মুসলিম পরিবারে জন্মেছিলেন তিনি।
লখিমপুর খেরির গ্রামটিতে মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় স্মৃতি প্রাকতোৎসব মেলায় (Smriti Prakototsav Mela)। মঞ্চে ভাষণ দিতে উঠে তিনি বলেন, “আমি শুনলাম, এই গ্রামে কোনও মুসলমান নেই। তাহলে গ্রামের নাম মুস্তফাবাদ কেন থাকবে?”
জনতার উদ্দেশে যোগী প্রশ্ন রাখেন— “আপনারা কি নাম পরিবর্তনে রাজি?” উপস্থিত জনতা একসঙ্গে সায় দিলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “লিখিত প্রস্তাব পাঠালেই আমি বিজ্ঞপ্তি জারি করব।”
যোগী এরপর ফৈজাবাদ ও এলাহাবাদের নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আমাদের সরকার ইতিহাস পুনরুদ্ধারের (Restoration of History) কাজ করছে। অতীতে মুসলিম শাসকেরা প্রকৃত নাম বদলে দিয়েছিলেন, আমরা তা ফেরাচ্ছি।” তাঁর দাবি, মুস্তফাবাদও তেমনই একটি গ্রাম, যার নাম বদলে দেওয়া হয়েছিল।
মুস্তফাবাদ গ্রামটি বহু বছর ধরেই কবীর স্মৃতি ও সম্প্রীতির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। গ্রামের বিশ্ব কল্যাণ আশ্রম (Vishva Kalyan Ashram) ঘিরেই প্রতিবছর এই সময় মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছরই প্রথম মুখ্যমন্ত্রী সেখানে যান এবং নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেন।
রাজনৈতিক মহলে এই পদক্ষেপ ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক (Controversy)।


