রক্তের সম্পর্কের বিয়ে মেনে নিল না গ্রাম, শাস্তি লাঙলে বাঁধা মানবদণ্ড
Connect with us

ভাইরাল খবর

রক্তের সম্পর্কের বিয়ে মেনে নিল না গ্রাম, শাস্তি লাঙলে বাঁধা মানবদণ্ড

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ ওড়িশার রায়াগড়া জেলার এক আদিবাসী গ্রামে মধ্যযুগীয় কায়দায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে শোরগোল পড়ে গেছে। ভাইরাল হওয়া এক ভিডিয়োতে দেখা গেছে, জমি চাষের লাঙলে ষাঁড়ের বদলে জোয়ালের সঙ্গে বাঁধা এক দম্পতি—একদিকে স্ত্রী, অন্যদিকে স্বামী। ঘটনাটি ঘটে রায়াগড়ার কাঞ্জামাজোড়ি গ্রামে (Kanjamajori, Rayagada)। গ্রামবাসীর দাবি, ওই দম্পতির সম্পর্ক ‘পাপসুলভ’, তাই শাস্তির জন্য তাঁদের দিয়ে লাঙল টানানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৮ বছর বয়সি লাকা সরাকা (Laka Saraka) সম্প্রতি পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন নিজের পিসি, ৩২ বছরের কোডিয়া সরাকাকে (Kodia Saraka)। আদিবাসী রীতিতে রক্তের সম্পর্কের মধ্যে বিবাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। গ্রামবাসীরা মনে করেন, এতে “গ্রামে বৃষ্টি হবে না” এবং “অশুদ্ধতা ছড়াবে”। সেই ‘পাপ’ থেকে মুক্তির জন্য ডাকা হয় সালিশি সভা (kangaroo court), যেখানে এই দণ্ড ঘোষণা হয়।

আরও পড়ুনঃ স্বামীর হাতে নির্যাতিত, সুভাষগঞ্জে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ হারালেন গৃহবধূ

ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, প্রথমে ওই দম্পতিকে প্রকাশ্যে স্নান করানো হয় শুদ্ধিকরণের অজুহাতে। তারপর জোয়ালের সঙ্গে গলায় দড়ি বেঁধে জমি চাষ করানো হয় তাঁদের দিয়ে। গোটা ঘটনা দেখতে প্রায় শতাধিক গ্রামবাসী ভিড় জমান। পরে লাকাকে মারধর করে ও তাঁদের দু’জনকে গ্রামছাড়া করা হয়।

Advertisement
ads ads

গ্রামের কয়েকজন আদিবাসী এই শাস্তির বিরোধিতা করলেও মুখ খুলতে ভয় পেয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন অবশ্য ভিডিও ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছে। রায়াগড়ার এসপি এস কুমার (S. Kumar) জানান, তদন্ত শুরু হয়েছে। কল্যাণসিংপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। এসডিপিও গৌরহরি সাহু (Gaurahari Sahu) বলেন, “আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে, দোষীরা রেহাই পাবে না।”

এখনও পর্যন্ত ওই দম্পতির খোঁজ মেলেনি। তদন্ত করছে সাব-কালেক্টরের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনিক দল। এই ঘটনার নিন্দা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মহলে।

Continue Reading
Advertisement ads