ভাইরাল খবর
‘মিঠুদা’র বিদায়ে বিষাদঘন টলিপাড়া, প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা হরিদাস চট্টোপাধ্যায়
ডিজিটাল ডেস্কঃ টেলিভিশনের পর্দায় এক পরিচিত মুখ। মৃদু হেসে দৃশ্যপটে এলেই দর্শকের মন জয় করে নিতেন তিনি। আর সেই প্রিয় মুখই আর দেখা যাবে না। চলে গেলেন হরিদাস চট্টোপাধ্যায়, টলিপাড়ার আদরের ‘মিঠুদা’। বুধবার রাতেই নিভে গেল তাঁর জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৮২ বছর।
বাংলাদেশে জন্ম, তারপর দেশভাগের বিভীষিকা পার করে এপারে এসে থিতু হওয়া— হরিদাসবাবুর জীবনের গল্প যেন এক সাহিত্যের অধ্যায়। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি নিজের অভিনয়ের জোরেই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। একাধিক ধারাবাহিক ও ছবিতে নিঃশব্দে নিজের কাজ করে গেছেন। উত্তরবঙ্গের দর্শকরাও টেলিভিশনের পর্দায় বহুবার পেয়েছেন তাঁর হাসিমুখ।
আরও পড়ুনঃ মেধা তালিকায় দাপট উত্তরবঙ্গের, রাজ্যসেরা অদ্রিত, দ্বিতীয় অনুভব
কালিকাপুরের এক ভাড়াবাড়িতে এক ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন তিনি। বিয়ে করেননি, সন্তান-সন্ততি নেই। মঞ্চ থেকে পর্দা— অভিনয়ই ছিল তাঁর ধ্যানজ্ঞান। তবে গত কয়েক মাসে শরীর ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছিল। বাড়িতে পড়ে গিয়ে আঘাত পান, তার পর থেকেই চলাফেরা ছিল সীমিত। বুধবার সন্ধেবেলা অসুস্থ বোধ করেন। ভাইয়ের কাছে আলো নিভিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান, তারপর ঘরে বিশ্রামে যান। অনেকক্ষণ পর ফিরে এসে ভাই দেখতে পান, প্রাণ নেই দাদার। ডাক্তার এসে জানিয়ে দেন— চলে গেছেন মিঠুদা।
তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সহকর্মীরা। ‘ত্রিনয়নী’-খ্যাত অভিনেত্রী শ্রুতি দাস জানালেন, “তিনি ছিলেন সকলের আপন। আমাদের সবার ‘দিদিভাই’ ডাক শুনে হাসতেন। মনটা ভার হয়ে গেল।”
তাঁর অভিনীত অপর্ণা সেনের ‘গয়নার বাক্স’ বা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’ আজ শুধুই স্মৃতি। বৃহস্পতিবার ক্যাওড়াতলা মহাশ্মশানে সম্পন্ন হয় শেষকৃত্য। সিনে-টেলিভিশন গিল্ডের পক্ষ থেকেও শোকপ্রকাশ করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের নানা জেলায় টেলিভিশনের দর্শকদের মধ্যে তাঁর অভিনয় ছিল খুবই পরিচিত। বিশেষ করে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার বা মালদার বহু পরিবার ‘দাদু’ বা ‘কাকু’ বলে চিনতেন হরিদাসবাবুকে। এখন শুধু স্মৃতি হয়ে থাকলেন তিনি— রুপোলি পর্দার এক নীরব জ্যোতিষ্ক।
