শিক্ষা
মেধা তালিকায় দাপট উত্তরবঙ্গের, রাজ্যসেরা আদৃত সরকার, দ্বিতীয় অনুভব
ডিজিটাল ডেস্কঃ নির্ধারিত সময় মেনেই শুক্রবার সকাল ৯ টায় প্রকাশিত হল ২০২৫ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন। ৭০ দিনের মাথায় ফলপ্রকাশ করে নজির গড়ল পর্ষদ।
এবছর রাজ্যজুড়ে নজরকাড়া সাফল্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল নাম উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের। রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে রায়গঞ্জ করোনেশন হাইস্কুলের ছাত্র আদৃত সরকার। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৬। রায়গঞ্জের বীরনগরের বাসিন্দা আদৃত সরকার ছোট থেকেই মেধাবী। ফল প্রকাশ হতেই তাঁর বাড়িতে আনন্দের আবহ, শুভেচ্ছায় ভাসছে গোটা পরিবার।
RC TV সংবাদের মুখোমুখি হয়ে আদৃত সরকার জানায়, “সারা বছরের পরিশ্রমের ফল পেয়েছি। চোখে জল এসে গিয়েছিল রেজাল্ট দেখে। ভবিষ্যতে মেডিক্যাল নিয়ে পড়তে চাই।” স্কুলের শিক্ষক, পরিবার ও দিদির কাছে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছে সে। অদ্রিতের কৃতিত্বে আনন্দিত হয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে এদিন বাড়িতে পৌঁছে যান রায়গঞ্জ পৌর প্রশাসক সন্দীপ বিশ্বাস।
আরও পড়ুনঃ চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ তৃণমূল অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে!
এবারের ফলাফলে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে মালদা রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দির। এই বিদ্যালয়ের ছাত্র অনুভব বিশ্বাস রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে (৬৯৪ নম্বর)। এছাড়াও অরিত্র সাহা ও সৃজন প্রামাণিক ৬৮৮ নম্বর পেয়ে যুগ্মভাবে অষ্টম হয়েছে। অনুভব বর্তমানে দিল্লিতে থাকলেও স্কুলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিল।
মাধ্যমিকে অষ্টম স্থান পেয়েছে তুফানগঞ্জ এন.এন.এম হাইস্কুলের অনির্বাণ দেবনাথ। ৬৮৮ নম্বর পেয়েছে সে। অনির্বাণ জানায়, “র্যাঙ্ক করব জানতাম। দিনে ৭-৮ ঘণ্টা পড়তাম। ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে।”
এদিকে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট হাইস্কুলের ছাত্র অনিক সরকার মেধা তালিকায় নবম স্থান অধিকার করেছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৭। চকভৃগু এলাকার অনিকের বাবা পেশায় মুদি দোকানি, মা গৃহবধূ। ছোট থেকেই পড়াশোনায় ভালো অনিক জানায়, “টেস্টে ৬৮২ পেয়েছিলাম। র্যাঙ্ক করার আশাই ছিল। এখন খুব ভাল লাগছে।”
অনিকের পাশাপাশি রাজ্যে নবম স্থান দখল করেছে কালিয়াগঞ্জ সরলা সুন্দরী হাইস্কুলের ছাত্র মৃনয় বসাক। ৬৮৭ নম্বর পেয়ে তালিকায় জায়গা করে নেওয়া মৃন্ময়ের বাবা একজন প্রাথমিক শিক্ষক। মৃনয়ের কথায়, “এই ফল আমার একার নয়, বাবা-মা, শিক্ষক ও গৃহশিক্ষকদের অবদানে এই সাফল্য। মৃনয় বসাক এর ইচ্ছা বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে আগানো।”
সব মিলিয়ে এবারের মাধ্যমিকের ফলাফলে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি, বিশেষ করে উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদা যে ভাবে মেধা তালিকায় আধিপত্য দেখিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।
