অমানবিকতার ছায়ায় মানবিকতার আলো, ভবঘুরের ব্যাগে মিলল কন্যাসন্তান
Connect with us

ভাইরাল খবর

অমানবিকতার ছায়ায় মানবিকতার আলো, ভবঘুরের ব্যাগে মিলল কন্যাসন্তান

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ একদিকে অমানবিকতা, অন্যদিকে এক ভবঘুরের নিঃশব্দ মানবিকতা—এই দুই বিপরীত দৃশ্যের সাক্ষী থাকল শিলিগুড়ি শহরের মাটিগাড়া এলাকা। শুক্রবার সকালে হনুমান মন্দিরের কাছে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরের ঝোলার ভেতর থেকে উদ্ধার হল সদ্যোজাত এক কন্যাসন্তান। শিশুটিকে প্রথমে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে ও পরে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মল্লাগুড়ির হনুমান মন্দির সংলগ্ন এলাকায় সকালে ভবঘুরে অবস্থান করছিলেন এক ব্যক্তি। তাঁর ঝোলা থেকে বারবার জিনিসপত্র ফেলতে দেখে সন্দেহ হয় পথচলতি মানুষদের। কৌতূহলবশে তাঁরা এগিয়ে যান। যদিও ভবঘুরে নিজের নাম কিংবা পরিচয় দিতে পারেননি, তবে হাতের ইশারায় তিনি ঝোলার দিকে নজর আকর্ষণ করেন।

আরও পড়ুনঃ অসাবধানতার ধাক্কা’ না কি অন্য কিছু? বিজেপি কনভয়ে সরকারি গাড়ির সংঘর্ষে প্রশ্ন

ঝোলা খুলতেই চমকে ওঠেন প্রত্যক্ষদর্শীরা—সেখানে শুয়ে সদ্যোজাত এক কন্যাসন্তান। সঙ্গে সঙ্গেই খবর দেওয়া হয় প্রধাননগর থানায়। পুলিশ এসে ভবঘুরের কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। পরে গ্রিন করিডর তৈরি করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

Advertisement
ads

পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, একটি স্থানীয় হাসপাতালের কাছে জঞ্জালের স্তূপে পড়ে ছিল শিশুটি। সেখান থেকেই তাকে কুড়িয়ে নিয়ে নিজের ঝোলায় রেখেছিলেন ওই ভবঘুরে। শিশুটি অসুস্থ অবস্থায় থাকলেও ভবঘুরে তাকে ফেলে যেতে চাননি। এমনকি ঝোলার অন্য সব জিনিস রাস্তায় ফেলে দিলেও শিশুটিকে আগলে রেখেছিলেন।

চিকিৎসক এস মণ্ডল জানিয়েছেন, “শিশুটির বয়স আনুমানিক এক দিন। তার মাথায় হাইড্রোসেফালাস (মাথায় জল জমা) রয়েছে। আপাতত অবস্থা স্থিতিশীল হলেও অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা রোশনি খাতুন, যিনি উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছিলেন, বলেন, “এ ভাবে একটি শিশুকে ফেলে যাওয়া অত্যন্ত অমানবিক। যারা এই কাজ করেছে, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।” আর এক প্রত্যক্ষদর্শীর মন্তব্য, “যার নিজের থাকার জায়গা নেই, সেই ভবঘুরেই শিশুটির প্রাণ বাঁচাল। এটাই প্রকৃত মানবতা।”

পুলিশ ভবঘুরেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। পাশাপাশি, কে বা কারা শিশুটিকে ফেলে গেল—তা খুঁজে বের করতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন।

Advertisement
ads