‘দেশ উত্তর চাইছে’—পাঁচ প্রশ্ন তুলে পহেলগাঁও ইস্যুতে কেন্দ্রকে আক্রমণ অভিষেকের
Connect with us

ভাইরাল খবর

‘দেশ উত্তর চাইছে’—পাঁচ প্রশ্ন তুলে পহেলগাঁও ইস্যুতে কেন্দ্রকে আক্রমণ অভিষেকের

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ পহেলগাঁও (Pahalgam) জঙ্গি হামলার ৫৫ দিনেরও বেশি সময় কেটে গিয়েছে। তবুও এখনও পর্যন্ত হামলায় অভিযুক্ত সন্ত্রাসবাদীদের খোঁজ মেলেনি। কীভাবে এত কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও জঙ্গিরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকতে পারল? আর হামলার পর তারা কীভাবে চম্পট দিল? এত বড় হামলার তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। অথচ এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) সরকারের পক্ষ থেকে কোনও পরিষ্কার বক্তব্য সামনে আসেনি।

এই ইস্যুতে ফের কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তুললেন তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) -এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের (Diamond Harbour) সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সোমবার এক্স (X)-এর মাধ্যমে পহেলগাঁও হামলা নিয়ে তিনি কেন্দ্রকে উদ্দেশ্য করে পরপর পাঁচটি তীব্র প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন।

উল্লেখ্য, পহেলগাঁও কাণ্ডে বিশেষ অধিবেশন চেয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-সহ বিরোধী দলের অন্যান্য নেতারা। তবে সেই দাবি কার্যত নাকচ করে কেন্দ্র জানিয়ে দিয়েছে, পরবর্তী বাদল অধিবেশনেই বিষয়টি আলোচিত হবে।

এদিন অভিষেকের এই পাঁচটি প্রশ্ন ভবিষ্যতে বিরোধী শিবিরের অন্যতম অস্ত্র হয়ে উঠবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। অনেকেরই অভিমত, বিরোধী শিবিরের অন্যতম মুখ হিসাবে জাতীয় রাজনীতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) ক্রমেই আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছেন।

Advertisement
ads

আরও পড়ুনঃ মাঝআকাশে বোমাতঙ্ক! হায়দরাবাদগামী বিমানের জরুরি অবতরণ ফ্র্যাঙ্কফার্টে

অভিষেকের তোলা পাঁচটি প্রশ্ন:

১. সীমান্ত ভেদ করে সন্ত্রাসবাদীরা ঢুকল কীভাবে?
অভিষেকের প্রশ্ন, “চার জন জঙ্গি কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করল? কীভাবে তারা ২৬ জন নিরীহ সাধারণ মানুষকে হত্যা করল? এত বড় জাতীয় নিরাপত্তা ভেদ হল কোথায়? আর এই মারাত্মক ব্যর্থতার দায় কার?”

Advertisement
ads

২. গোয়েন্দা ব্যর্থতা, অথচ পুরস্কার?
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি এই হামলা গোয়েন্দা বিভাগের ব্যর্থতার ফল হয়, তাহলে কেন গোয়েন্দা প্রধানের (Intelligence Bureau Chief) মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হল? তাও হামলার মাত্র এক মাস পর! তাঁকে জবাবদিহির বদলে পুরস্কৃত করা হল কেন? সরকারের কী এমন বাধ্যবাধকতা ছিল?”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “সরকার যখন পেগাসাস (Pegasus) স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে বিরোধী নেতা (আমার উপরও), সাংবাদিক এবং বিচারপতিদের উপর নজরদারি করতে পারে, তখন একই প্রযুক্তি সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয় না কেন?”

৩. জঙ্গিরা কোথায়?
“পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে জড়িত চার জঙ্গি কোথায়? তারা কি জীবিত না নিহত? যদি নিকেশ হয়ে থাকে, তাহলে সরকার স্পষ্ট বিবৃতি দিচ্ছে না কেন? আর যদি তারা এখনও ধরা না পড়ে থাকে, তাহলে কেন এত দীর্ঘ নীরবতা?”

৪. পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoJK) ফেরত কবে?
“পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর (Pakistan Occupied Jammu & Kashmir) ভারত কবে ফিরিয়ে আনবে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট (US President) দাবি করেছিলেন, তিনি ভারতকে বাণিজ্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করিয়েছিলেন। কেন ভারতের সরকার সেই দাবির আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি? কেন ১৪০ কোটি ভারতবাসীর আবেগকে অবহেলা করা হল?”

৫. আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের অবস্থান কোথায়?
“পহেলগাঁও হামলার পর ভারত সরকার ৩৩টি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তার মধ্যে কতগুলি দেশ প্রকাশ্যে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল? আমরা যদি বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হই, তাহলে পাকিস্তান (Pakistan) কীভাবে আইএমএফ (IMF) এবং বিশ্বব্যাঙ্ক (World Bank)-এর কাছ থেকে হামলার পরপরই ১ বিলিয়ন ও ৪০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা পায়?”

Advertisement
ads

তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “এর থেকেও বড় প্রশ্ন—পাহেলগাঁও হামলার এক মাসের মধ্যেই পাকিস্তান কীভাবে রাষ্ট্রসংঘের (United Nations) সন্ত্রাস দমন কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান হয়?”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেন, গত ১০ বছরে ভারতের বিদেশনীতি খাতে ২ লক্ষ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে। দেশের মানুষের অধিকার রয়েছে, তারা সরকারের থেকে সঠিক উত্তর, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা প্রত্যাশা করবে। শুধু নীরবতা দিয়ে জনগণের প্রশ্নকে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।

অভিষেকের প্রশ্নবাণ ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা যেমন কীর্তি আজাদ (Kirti Azad), সুস্মিতা দেব (Sushmita Dev), কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar), শশী পাঁজা (Shashi Panja), ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)-রা সামাজিক মাধ্যমে রিটুইট করে কেন্দ্রকে নিশানা করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) পহেলগাঁও ইস্যুতে এখনও তেমন সরব হননি। এই পরিস্থিতিতে অভিষেকের এই প্রশ্নমালা ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন—“দেশ আজ উত্তর চাইছে। নিরবতা নয়, দায়িত্বশীল উত্তর চাই।”

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement