দুর্ঘটনা
মাঝআকাশে বোমাতঙ্ক! হায়দরাবাদগামী বিমানের জরুরি অবতরণ ফ্র্যাঙ্কফার্টে
ডিজিটাল ডেস্ক: ফের বিমানযাত্রায় আতঙ্ক! আহমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার দুঃসহ স্মৃতি এখনও দেশবাসীর মনে দগদগে। তার মধ্যেই ফের বোমাতঙ্কের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। মাঝআকাশে হায়দরাবাদগামী বিমানে বোমা রয়েছে, এমন সন্দেহে ফ্র্যাঙ্কফার্টে জরুরি অবতরণ করানো হল বিমানটিকে। তবে আশার কথা, বিমানে থাকা সমস্ত যাত্রী এবং বিমানকর্মীরা সুস্থ এবং নিরাপদ।
জানা গিয়েছে, লুফ্থানসা (Lufthansa) সংস্থার ওই বিমানটি সোমবার ভারতীয় সময় ভোররাতে জার্মানির ফ্র্যাঙ্কফার্ট বিমানবন্দর (Frankfurt Airport) থেকে ওড়ে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বিমানটির হায়দরাবাদ পৌঁছানোর কথা ছিল ভোর ৬টা নাগাদ। উড়ানের শুরুর দুই ঘণ্টা পরে আচমকা বিমানে বোমা রয়েছে বলে সন্দেহের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রী এবং বিমানকর্মীদের মধ্যে।
এমন পরিস্থিতিতে পাইলটের সিদ্ধান্তে সঙ্গে সঙ্গেই বিমানের গন্তব্য বদলে ফের ফ্র্যাঙ্কফার্টের দিকে ফিরে যায় উড়ানটি। নিরাপত্তার সমস্ত প্রোটোকল মেনে বিমানটি নিরাপদে ফ্র্যাঙ্কফার্ট বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় পুলিশ এবং বম্ব স্কোয়াড। বিমানের প্রত্যেক যাত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে আনেন বিমানকর্মীরা। বিমানে মোট কতজন যাত্রী ছিলেন, তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে সবাই সুস্থ আছেন বলে সংস্থা জানিয়েছে। বিমানটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার-৯ (Boeing 787 Dreamliner-9) মডেলের বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ৮০ কোটি টাকার নির্মীয়মাণ সেতু ভেঙে পড়ল মধ্যপ্রদেশে, আহত ৬
উল্লেখ্য, এই ঘটনা আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, দিন কয়েক আগেই আহমেদাবাদে দুর্ঘটনায় যে বিমানটি ভেঙে পড়েছিল, সেটিও ছিল বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার-৮ (Boeing 787 Dreamliner-8)। এখনও পর্যন্ত ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ স্পষ্ট নয়। মৃতদের মধ্যে অনেকের দেহ শনাক্ত করাও সম্ভব হয়নি। তার মধ্যেই ফের একই ধরনের বিমানে এমন আতঙ্ক ছড়ানোয় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এই ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। আহমেদাবাদের দুর্ঘটনার পরদিনই থাইল্যান্ড থেকে ভারতে আসা আরেকটি বিমানে বোমাতঙ্কের জেরে মাঝআকাশ থেকে জরুরি অবতরণ করাতে হয়েছিল। এমনকি, সেই বিমানেরও দীর্ঘক্ষণ আকাশে চক্কর কাটাতে হয়েছিল।
ক্রমাগত এই ধরনের ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ক্রমশ বাড়ছে। বোয়িং বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে এখন নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। তবে ফ্র্যাঙ্কফার্ট বিমানবন্দরের সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্পূর্ণ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত বিমানের আর যাত্রা করার অনুমতি দেওয়া হবে না। বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমানটির সমস্ত যাত্রীকে বিকল্প ব্যবস্থায় সোমবারই হায়দরাবাদে পাঠানো হবে।
এই ঘটনার পর বিমান যাত্রার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আঁটসাঁট করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
