রাজনীতি
খেজুরিতে শুভেন্দুর বনধ ঘিরে উত্তেজনা, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, ভাঙচুরে রণক্ষেত্র এলাকা
ডিজিটাল ডেস্কঃ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠল পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি। এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত খুন’ বলে অভিযোগ তুলে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সোমবার ডেকেছিলেন ১২ ঘণ্টার খেজুরি বনধ। আর সেই বনধ ঘিরেই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। সকাল থেকেই রাস্তা অবরোধ, দোকান বন্ধ, পুলিশের সঙ্গে বচসা, এমনকি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, খেজুরির ভাঙনমারি গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত সুজিত দাস ও সুধীর পাইকের মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটি পরিকল্পিত খুন। যদিও পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয়দের বক্তব্য— ঘটনাটি দুর্ঘটনাজনিত। একটি অনুষ্ঠান চলাকালীন হ্যালোজেন লাইট খুলে পড়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় তাঁদের। ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই তাতে জল ঢালে বিজেপির খুনের তত্ত্বে।
আরও পড়ুনঃ রায়গঞ্জে বিজেপি কর্মীর দোকান ভাঙচুর, অভিযোগ তৃণমূল অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে
তবে শুভেন্দুর দাবিকে সামনে রেখে সোমবার বনধ সফল করতে মাঠে নামে বিজেপি। অভিযোগ, খেজুরির একাধিক এলাকায় জোর করে দোকান বন্ধ করানো হয়। বাঁশগরায় পুলিশের গাড়ি ও একটি ট্রাক ভাঙচুর করে বনধ সমর্থকরা। হেঁড়িয়া-খেজুরি রাজ্য সড়ক অবরোধ হয়, ফলে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের সঙ্গে বনধ সমর্থকদের ধস্তাধস্তিও হয়। এখনও পর্যন্ত ৯ জন বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করে যুব তৃণমূল সভাপতি জালাউদ্দিন খান (Jalaluddin Khan) বলেন, “শুভেন্দু লাশের রাজনীতি করতে ভালোবাসেন। দুর্ঘটনাকে খুন বলছেন প্রমাণহীনভাবে।” এদিকে কাঁথির এসডিপিও দিবাকর দাস (SDPO Dibakar Das) জানান, “অনুষ্ঠানের কোনও অনুমতি ছিল না। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, কার গাফিলতিতে মৃত্যু হল।”
রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহেই প্রশ্ন উঠছে— দুর্ঘটনা না কি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র? তার উত্তর সময়ই দেবে।
