‘হিন্দু বলে মেরেছে’ মন্তব্যে শুভেন্দুর পাশে শহিদ স্ত্রী, পাল্টা প্রশ্ন তোলেন কুণাল ঘোষ
Connect with us

হামলা

‘হিন্দু বলে মেরেছে’ মন্তব্যে শুভেন্দুর পাশে শহিদ স্ত্রী, পাল্টা প্রশ্ন তোলেন কুণাল ঘোষ

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ কাশ্মীরের বৈসরন উপত্যকায় জঙ্গি হামলায় নিহত হয়েছেন কলকাতার বাসিন্দা বিতান অধিকারী সহ আরও । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কর্মরত বিতান সাময়িক ছুটিতে দেশে এসে স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন উপত্যকায়। আনন্দযাত্রা রূপ নেয় মৃত্যুযাত্রায়।

সেই বিভীষিকার সাক্ষী হয়ে দেশে ফিরলেন তাঁর স্ত্রী সোহিনী অধিকারী। স্বামীর নিথর দেহ ঢেকে রাখা কফিনের পাশে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি কলকাতা বিমানবন্দরে। ফুলে মোড়া কফিন, আর কাঁদতে কাঁদতে একটানা শুধু একটাই আর্তি—“আমার স্বামীর খুনিদের যেন উপযুক্ত সাজা হয়! আমি শুধু আপনাদের ভরসায় এসেছি।”

আরও পড়ুনঃ উধমপুরের এনকাউন্টারে শহিদ নদিয়ার ঝন্টু, শোকের ছায়া বাংলায়

এদিন বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। নিজের কোলে তুলে নেন নিহত বিতানের শিশুসন্তানকে। পাশে দাঁড়ানো স্ত্রী সোহিনীকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, “যারা হিন্দুস্তানে হিন্দুকে খুন করে, তারা রেহাই পাবে না। গাজা শেষ হয়েছে, ইজরায়েল শেষ করেছে, আমরাও করব।” সোহিনীর কান্নাজড়িত কণ্ঠে শোনা যায়, “স্যার, আমি আপনাদের ভরসায় এসেছি। আমার চোখের সামনে ওকে মেরে ফেলল!”

Advertisement
ads

এই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও পরে শেয়ার করা হয় শুভেন্দুর ফেসবুক পেজ থেকে। সেখানে দেখা যায়, সোহিনী বারবার বলছেন, “আমার সব শেষ হয়ে গেল, আমার বাচ্চার সামনে ওর বাবাকে মেরেছে!”

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্টে লিখেছেন, “প্রথমে টিভিতে বলেন, হিন্দু-মুসলমান বেছে মারে না। পরে বিজেপি নেতাদের সামনে বলেন, হিন্দু বলে মেরেছে। এটা কী দ্বিচারিতা নয়?”

তিনি আরও যোগ করেন, “মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে সাহায্যের জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছিল। সরকারি স্তরে ফেরানোর সব ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এখন বিজেপির সামনে দাঁড়িয়ে অন্য সুর কেন? অবশ্যই আমরা সহানুভূতিশীল, কিন্তু মৃতের বাবা-মার কথা কেউ ভাবছে না। কেবল স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণ দিলে চলবে না, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের জন্যও সরকারি সাহায্য প্রয়োজন।”

বিতান অধিকারীর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ তাঁর পরিবার ও প্রতিবেশীরা। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠছে, নিরাপত্তার অভাবে কবে নাগরিকের প্রাণ যাওয়া বন্ধ হবে? আর সেই সঙ্গেই জঙ্গিদের নির্মূল করতে আরও কড়া পদক্ষেপের দাবি উঠছে সর্বত্র।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement