প্রতারণা
গোপন গর্ভপাত চক্র ! ভাড়াবাড়ি থেকে ধৃত প্রাক্তন কম্পাউন্ডার
ডিজিটাল ডেস্কঃ পূর্ব বর্ধমান জেলার (Purba Bardhaman District) গুসকরা শহরে (Guskara Town) ভাড়াবাড়িকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। অবৈধভাবে গর্ভপাতের (Illegal Abortion) অভিযোগে ধৃত হল এক প্রৌঢ়, যিনি একসময় একজন কম্পাউন্ডার (Compounder) হিসেবে কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন নার্সিংহোমের (Nursing Home) দালালি করতেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গুসকরা শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের লাইনপাড় এলাকায়। সাধন দাসবৈরাগ্য (Sadhan Dasbairagya) নামে ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার এক দোতলা বাড়ির উপরতলায় ভাড়া থাকতেন। শহরে বসবাসের (Residence) অজুহাতে ভাড়া নেওয়া ঘরটি ব্যবহার করছিলেন বেআইনি গর্ভপাতের কাজে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে (প্রায় পৌনে দশটা) এক কিশোরী, এক যুবক এবং দুই যুবতীকে সাধনের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখেন কিছু স্থানীয় যুবক। প্রথমে তাঁদের সন্দেহ হয়, ওই ঘরে মধুচক্র (Sex Racket) চলছে। কিন্তু সাহস করে তারা হঠাৎ করেই ঘরে ঢুকে পড়েন, এবং সেখানে পরিস্থিতি দেখে চমকে যান।
তাঁরা বুঝতে পারেন, সাধন বেআইনিভাবে গর্ভপাত করান। ধারণা করা হচ্ছে, ওই তিন মহিলার মধ্যে একজনের গর্ভপাতের উদ্দেশ্যেই রাতের অন্ধকারে এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সাধন দাসবৈরাগ্য ঘরের দরজা খোলা রেখেই পালিয়ে যান। স্থানীয়রা তৎক্ষণাৎ ঘরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে পুলিশকে খবর দেন।
গুসকরা ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে শুক্রবার সকালে সাধন যখন আবার ওই বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করছিলেন, তখন তাঁকে ধরে ফেলে স্থানীয় যুবকেরা। বচসা থেকে হাতাহাতি পর্যন্ত চলে যায়। পরে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়।
জানা গেছে, সাধনের বাড়ি আউশগ্রাম (Ausgram) ১ ব্লকের জোরারগঞ্জ গ্রামে। প্রায় তিন বছর ধরে গুসকরার ওই বাড়িতে ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনি। এক সময় এক গাইনোকলজিস্টের (Gynaecologist) কম্পাউন্ডার ছিলেন। এখন বর্ধমান শহরের একাধিক নার্সিংহোমের হয়ে দালালি করতেন, রোগী পাঠিয়ে কমিশন (Commission) নিতেন।
সাধনের দাবি, “আমি চিকিৎসকের কাছ থেকে ফোঁড়া অস্ত্রোপচারের (Minor Surgical Procedures) কাজ শিখেছিলাম, সেটাই করতাম। গর্ভপাত করিনি। আমাকে ভুল বোঝানো হয়েছে।”
তবে পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত স্বাস্থ্য দপ্তর (Health Department) থেকে লিখিত অভিযোগ আসেনি। আউশগ্রাম ১ ব্লকের স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়দ্রথ বিশ্বাস বলেন, “একটা অভিযোগ পেয়েছি। বেআইনিভাবে কেউ গর্ভপাত করাতেন বলে জানানো হয়েছে। তদন্ত চলছে, রিপোর্ট অনুযায়ী আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। তদন্তে উঠে আসছে আরও অনেক অজানা তথ্য, যা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
