পাকিস্তান
অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভের আগুন, অনির্দিষ্টকালের বনধে অচল জনজীবন
ডিজিটাল ডেস্কঃ অধিকৃত কাশ্মীরে ফের উত্তাল জনতা। পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফ সরকারের বৈষম্যমূলক (discriminatory) আচরণের প্রতিবাদে সোমবার রাস্তায় নেমে তীব্র বিক্ষোভ দেখাল সাধারণ মানুষ। আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (Awami Action Committee) ডাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডাকা হয়েছে ‘শাটার ডাউন’ ও ‘চাক্কা জ্যাম’ বনধ (shutdown & roadblock)।
পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)-এর প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে এই আন্দোলনের আঁচ। সোমবার মধ্যরাত থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট (internet) পরিষেবা। উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী (security forces)।
আন্দোলনকারী কমিটির দাবি অনুযায়ী, সরকারের কাছে ৩৮ দফা দাবি পেশ করা হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল— কাঠামোগত সংস্কার (structural reforms) এবং অধিকৃত কাশ্মীরের বিধানসভায় পাকিস্তান-বাসী কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিলের দাবি।
জনতার দীর্ঘ দিনের ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্বাস্থ্য (health), শিক্ষা (education), পরিকাঠামো (infrastructure) এবং পানীয় জলের (drinking water) অভাব। অভিযোগ, বারংবার দাবি জানানো হলেও কেন্দ্রীয় সরকার কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টে প্রশাসনিক অবহেলা (negligence), দুর্নীতি (corruption) ও ঘুষ (bribery) ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
প্রশাসনের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে— কোনও ধরনের বনধ বা ধর্মঘট বরদাস্ত করা হবে না। তবে তাতে বিচলিত নয় আন্দোলনকারীরা। মুফতিবাদের (Muftibad) এক প্রবীণ আইনজীবী (senior lawyer) বলেন, “ধর্মঘট (strike) হল জনগণের গণতান্ত্রিক (democratic) অধিকার। প্রশাসনের কাজ হওয়া উচিত দাবিগুলিকে গুরুত্ব দেওয়া, দমন নয়।”
সোমবার লক্ষাধিক মানুষ ব্যানার হাতে আন্দোলনে যোগ দেন। ব্যবসায়ী থেকে আইনজীবী, ছাত্র থেকে গৃহবধূ— সকলে আওয়ামি কমিটিকে সমর্থন জানিয়ে পথে নেমেছেন।
সম্প্রতি ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) হামলা চালানোর প্রয়োজন নেই। ওটা আমাদেরই। একদিন নিজের মুখেই বলবে, ‘আমি ভারতের অংশ’।” আজ অধিকৃত কাশ্মীরে রাস্তায় নামা হাজার হাজার মানুষের কণ্ঠে যেন সেই সুরই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।


