বিনোদন
২১ শতকের সেরা ছবি ‘প্যারাসাইট’, হলিউডকেও ছাপিয়ে গেল কোরিয়ান মাস্টারপিস
ডিজিটাল ডেস্কঃ আবারও বিশ্বমঞ্চে কোরিয়ান সিনেমার জয়জয়কার। নিউ ইয়র্ক টাইমসের (New York Times) নির্বাচিত তালিকায় ২১ শতকের সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে স্বীকৃতি পেল বং জুন হো (Bong Joon-ho) পরিচালিত দক্ষিণ কোরিয়ার মাস্টারপিস ‘প্যারাসাইট’ (Parasite)। নোলান, ফিনচার, পল টমাস অ্যান্ডারসনের মতো হেভিওয়েট হলিউড পরিচালককে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান দখল করল এই সমাজবিদ্রুপে মোড়া ব্ল্যাক কমেডি।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের ভাষায়, “বং জুন হো কোনও নির্দিষ্ট ঘরানার পরিচালক নন। তাঁর প্রতিটি গল্পই বলার নিজস্ব ভাষা ও ছন্দে তৈরি। একেক সময় কৌতুক, একেক সময় টানটান থ্রিল, শেষে এক ভয়াবহ বাস্তবতা—সব একসঙ্গে মিশে তৈরি করে এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।”
আরও পড়ুনঃ ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ স্থগিত! কূটনৈতিক উত্তেজনার আবহেই সাদা বলের দ্বৈরথ পিছোল ২০২৬-এ
২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্যারাসাইট’ এক দরিদ্র কোরিয়ান পরিবারের গল্প বলে, যারা ধাপে ধাপে ঢুকে পড়ে এক অভিজাত পরিবারের জীবনে। এই গল্পে ধরা পড়ে শ্রেণীবিভক্ত সমাজের নির্মম বাস্তবতা, নৈতিক দ্বন্দ্ব এবং শেষপর্যন্ত এক দগ্ধ করা ট্র্যাজেডি। ছবিটি মাত্র ১১ মিলিয়ন ডলারে তৈরি হলেও বিশ্বজুড়ে আয় করে প্রায় ২৫৮ মিলিয়ন ডলার।
ছবিটি প্রথম কোরিয়ান সিনেমা হিসেবে Cannes Film Festival-এ Palme d’Or জেতে। পরে একে একে জয় করে Golden Globes, BAFTA, SAG Awards এবং চূড়ান্ত সম্মান—Academy Awards। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনও নন-ইংলিশ ভাষার ছবি Best Picture ক্যাটাগরিতে অস্কার জিতে নেয়। সঙ্গে আরও তিনটি বিভাগে—Best Director, Best Original Screenplay এবং Best International Feature Film—অস্কার ঘরে তোলে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ডেভিড লিঞ্চের (David Lynch) Mulholland Drive, তৃতীয় পল টমাস অ্যান্ডারসনের (Paul Thomas Anderson) There Will Be Blood। এছাড়াও প্রথম দশে রয়েছে হং কংয়ের In the Mood for Love (৪), Moonlight (৫), No Country for Old Men (৬), Eternal Sunshine of the Spotless Mind (৭), Get Out (৮), Spirited Away (৯), এবং The Social Network (১০)।
পাঠকদের ভোটে কিন্তু চমক রেখেছে ক্রিস্টোফার নোলানের (Christopher Nolan) Interstellar—তাদের পছন্দের তালিকায় পঞ্চম হলেও মূলতালিকায় ছবিটির স্থান ৮৯ নম্বরে।
এই স্বীকৃতি কেবল একটি ছবির সাফল্য নয়—এ এক সাংস্কৃতিক বিজয়। ভাষা, সংস্কৃতি কিংবা দেশের সীমারেখা—সব কিছুকে অতিক্রম করে ‘প্যারাসাইট’ বিশ্ববাসীকে আবারও প্রমাণ করে দিল, “সত্যিকারের গল্প বলার জন্য অনুবাদ নয়, দরকার শুধু অনুভব করার মন।”
