দেশের খবর
ওয়াকফ আইনের সংশোধনী কার্যকর মধ্যপ্রদেশে! ১০ সদস্যের বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত দুই হিন্দু সদস্য
ডিজিটাল ডেস্কঃ দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের সাক্ষী হলো ভারত। প্রথম রাজ্য হিসেবে ওয়াকফ (সংশোধন) আইন-২০২৫ (Waqf Amendment Act) মেনে মধ্যপ্রদেশে নতুন ওয়াকফ বোর্ড পুনর্গঠন করা হলো। মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মোহন যাদবের এক তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্তের পর রাজ্য সরকার নবগঠিত ১০ সদস্যের বোর্ডে প্রথমবারের মতো দু’জন হিন্দু সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। মধ্যপ্রদেশ সরকারের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের পর একটি আনুষ্ঠানিক গেজেট বিজ্ঞপ্তিও (Gazette notification) জারি করা হয়েছে।
নবগঠিত এই মধ্যপ্রদেশ ওয়াকফ বোর্ডের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে সানওয়ার প্যাটেলের হাতে, যিনি এর চেয়ারম্যান (Chairman) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত হওয়া দুই হিন্দু সদস্য হলেন ইন্দোরের মনোজ মালপাণি এবং রাঘোগড়ের অনিমেষ ভার্গব। পূর্বে ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ আইন অনুসারে বোর্ডে শুধুমাত্র মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি থাকাই বাধ্যতামূলক (Mandatory) ছিল। কিন্তু কেন্দ্রের নতুন সংশোধিত আইন অনুযায়ী বোর্ডের সদস্যদের আর একক ধর্মীয় পরিচিতি থাকা আবশ্যক নয় এবং অনধিক দু’জন অমুসলিম সদস্য রাখার বিধান রয়েছে। মধ্যপ্রদেশ সরকার জানিয়েছে, ওয়াকফ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক (Accountable) করতেই এই ব্যাপকভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা।
নতুন এই বোর্ডে দুই হিন্দু সদস্য ছাড়াও লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে একাধিক মহিলা সদস্যও (Women members) স্থান পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নাজমা হেপতুল্লা, ফাতেমা চৌধুরী, শায়েস্তা সুলতান ও শাবানা খান। এছাড়া পদাধিকারবলে (Ex-officio) অনগ্রসর শ্রেণী ও সংখ্যালঘু কল্যাণ কমিশনারকেও এর সদস্য করা হয়েছে। যদিও এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুসলিম সম্প্রদায় ও বিরোধী দলগুলি তীব্র আপত্তি (Objection) জানিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, ওয়াকফ বোর্ড একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, তাই অন্য ধর্মীয় বোর্ডে যেমন অহিন্দু প্রতিনিধি থাকে না, এখানেও থাকা উচিত নয়। তবে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) নতুন আইনে কোনো স্থগিতাদেশ না দেওয়ায় আইনি পথেই এই ঐতিহাসিক পুনর্গঠন সম্পন্ন হলো।
