বিশ্বের খবর
নতুন সরকার, পুরনো প্রেম—লন্ডনে চুপিসারে আবারও জমে উঠল BNP-জামাতের কেমিস্ট্রি!
ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলাদেশের রাজনীতিতে দৃশ্যত দৃষ্টিভঙ্গির বদল হলেও, তলে তলে পুরনো সম্পর্ক যে এখনও অটুট, তার ইঙ্গিত মিলল সম্প্রতি লন্ডনের এক গোপন বৈঠকে। এক সময়ের রাজনৈতিক সহযোগী বিএনপি ও জামাত-ই-ইসলামি প্রকাশ্যে পরস্পরের থেকে দূরত্ব বজায় রাখলেও, সম্প্রতি তাদের দুই শীর্ষ নেতার বৈঠক নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা গিয়েছে, লন্ডনের কিংসটনে বিএনপির কার্যকরী চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের বাড়িতে বৈঠক করেছেন জামাতের আমির ডঃ শফিকুর রহমান ও নায়েব-এ-আমির ডঃ সইদ আবদুল্লাহ মহম্মদ তাহের। সূত্রের দাবি, বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপার্সন তথা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও উপস্থিত ছিলেন।
এই বৈঠকের খবর প্রথম প্রকাশ্যে আনেন খালেদা জিয়ার প্রাক্তন প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন। তবে পোস্টটি নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বিএনপি বা জামাত, কারও তরফেই। বরং ইংল্যান্ডে জামাতের এক শীর্ষ নেতাকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এটি বিএনপির বিষয়। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডে বিএনপির শাখা সভাপতি এমএ মালেক বৈঠকের কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানান, এমন কোনও খবর তাঁর জানা নেই।
উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের জেরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং এরপর নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই সময় থেকেই দেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনের রূপরেখা ঘিরে চাপের মুখে পড়েছে ইউনুস সরকার। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি ও জামাত পৃথক পৃথকভাবে সরকারের প্রতি চাপ বাড়াতে থাকলেও, রাজনৈতিকভাবে তারা নিজেদের পথ আলাদা বলে প্রচার করেছে।
তবে লন্ডনের গোপন বৈঠকের ঘটনা থেকে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, পুরনো ‘ভাই-ভাই’ সম্পর্ক হয়তো আবার দৃঢ় করতে চাইছে দুই দলই। প্রকাশ্যে যতই মতপার্থক্যের বার্তা দেওয়া হোক না কেন, অতীতের জোট রাজনীতির সুতোর টান এখনও সম্পূর্ণ ছিন্ন হয়নি—এই ঘটনা তারই প্রমাণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে এই ‘নিঃশব্দ সমীকরণ’-এর কী প্রভাব পড়বে, তা এখন সময়ই বলবে।
