ডিজিটাল ডেস্কঃ কাঁওয়ার যাত্রা (Kanwar Yatra 2025) শুরু হতে না হতেই উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মুজফ্ফরনগরে (Muzaffarnagar) ধর্মীয় পরিচয় ঘিরে চরম উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জাতীয় সড়ক ৫৮-র ধারে অবস্থিত একটি ধাবায় কর্মরত এক মুসলিম যুবককে হিন্দু নাম ব্যবহার করার অভিযোগে মারধরের ঘটনা চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কর্মীরা শুধু প্রশ্ন করেই থামেননি, যুবকের প্যান্ট খুলে ধর্মীয় পরিচয় যাচাইয়ের চেষ্টা করে।
ধৃত যুবকের আসল নাম তজাম্মুল (Tajammul)। তিনি ‘পণ্ডিত জি বৈষ্ণব ধাবা’য় ‘গোপাল’ নাম ব্যবহার করে কর্মরত ছিলেন। তাঁর দাবি, ধাবার মালিকই তাঁকে পরিচয় গোপন রাখতে বলেন, যাতে কাজ করতে কোনও সমস্যা না হয়। এমনকি তিন মাস ধরে তিনি হাতে ‘কড়া’ পরে ছিলেন—একটি হিন্দু ধর্মীয় চিহ্ন—যাতে কেউ সন্দেহ না করে।
তজাম্মুলের কথায়, “ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাজ না পাওয়া কিংবা হেনস্তার ভয়ে আমি নিজের নাম পাল্টাতে বাধ্য হয়েছিলাম। মালিকই বলেছিলেন গোপাল নামেই কাজ করতে।” কিন্তু ২৮ জুন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুনঃ রায়গঞ্জে শতাব্দী প্রাচীন গাছ হঠাৎ ভেঙে পড়ে, রেহাই পেল যাত্রীরা, আহত অটোচালক
‘যোগ সাধনা আশ্রম’-এর সঙ্গে যুক্ত স্বামী যশবীর জি মহারাজ (Swami Yashveer Ji Maharaj) তাঁর অনুগামীদের নিয়ে ধাবায় আসেন ‘পরিচয় যাচাই অভিযানে’। অভিযোগ, কর্মীদের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। আধার কার্ড ও মোবাইল হারানোর অজুহাত দিলেও তজাম্মুলের উপর সন্দেহ হয়। তখনই তাঁকে চেপে ধরা হয়। অভিযোগ, তাঁকে মারধর করা হয় এবং প্যান্ট খুলে পরিচয় যাচাইয়ের চেষ্টা চালানো হয়।
ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশ তদন্তে নামে। ইতিমধ্যে মুজফ্ফরনগর পুলিশ ‘যোগ সাধনা আশ্রম’-এর সঙ্গে যুক্ত ৬ জনকে তলব করেছে—সুমিত বহরাঘি, রোহিত, বিবেক, সানি, সুমিত ও রাকেশ। জানা গিয়েছে, এঁরা সকলেই যশবীর মহারাজের ঘনিষ্ঠ।
এই ঘটনায় নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছে যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) সরকারের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা, যেখানে বলা হয়েছে কাঁওয়ার যাত্রাপথে প্রতিটি খাবারের দোকানে মালিকের নাম, ধর্মীয় পরিচয় ও খাদ্য লাইসেন্স স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে।
বিরোধীরা একে ধর্মীয় বৈষম্যের চর্চা বলে তীব্র সমালোচনা করেছে। সমাজবাদী পার্টির (Samajwadi Party) নেতা ও প্রাক্তন সাংসদ এসটি হাসান (ST Hasan) বলেন, “এটা একপ্রকার ধর্মীয় সন্ত্রাস। দোকানির প্যান্ট খুলে পরিচয় যাচাই করার ঘটনা পহেলগামের থেকে কতটা আলাদা?”
উত্তরাখণ্ডেও (Uttarakhand) একই ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গিয়েছে। সেখানে হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা জোর করে দোকানিদের ধর্মীয় পরিচয় যাচাই করছে, এমন ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে।
এই ঘটনা কেবল ধর্মীয় সম্প্রীতি নয়, দেশের সংবিধান ও ব্যক্তিগত অধিকারের প্রশ্নও তুলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বহু বিশ্লেষক। এখন দেখার, এই ঘটনায় প্রশাসন কতটা কঠোর পদক্ষেপ নেয়।