ভাইরাল খবর
ওয়াকফ আইন বাতিলের দাবিতে উত্তপ্ত জঙ্গিপুর, বন্ধ ইন্টারনেট, গ্রেপ্তার ২২
ডিজিটাল ডেস্কঃ সংশোধিত ওয়াকফ আইন প্রত্যাহারের দাবিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর মহকুমার রঘুনাথগঞ্জ ও সুতি এলাকা। সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস, বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন এবং শেষমেশ ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় প্রশাসন।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার বিকেল থেকে আইন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। ধীরে ধীরে তা হিংসাত্মক রূপ নেয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভকারীরা। উত্তেজিত জনতা পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। শুরু হয় ইটবৃষ্টি ও বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর।। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার আনন্দ রায়। তাঁর নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করা হয়। পরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
আরও পড়ুনঃ ওয়াকফ বিল নিয়ে মুখ খুললেন মমতা, ‘আপনাদের সম্পত্তি সুরক্ষিত’ : মমতা
রাত পেরিয়ে গেলেও বুধবার সকাল পর্যন্ত রঘুনাথগঞ্জ ও সুতি এলাকায় থমথমে পরিবেশ বজায় রয়েছে। এলাকায় ১৬৩ ধারা আগেই জারি করা হয়েছিল। বুধবার ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন, যাতে কোনও গুজব না ছড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি, যাঁরা গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন বা হিংসায় উসকানি দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে বুধবার যাওয়ার কথা স্থানীয় বিধায়ক জাকির হোসেনের। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।
এদিকে, জঙ্গিপুরের হিংসা নিয়ে মুখ খুলেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তিনি বলেন, “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিংসা বরদাস্ত করা উচিত নয়। রামনবমীর শান্তিপূর্ণ উদযাপনেই বোঝা গেছে, প্রশাসনের ক্ষমতা রয়েছে। তাই শান্তি বিঘ্নিত করার যে কোনও চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা উচিত।” তিনি আরও বলেন, রাজ্যকে দ্রুত ও কড়া পদক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
বর্তমানে জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও এলাকাজুড়ে এখনও চাপা উত্তেজনা। শান্তি ফেরাতে জারি রয়েছে পুলিশি টহল এবং নজরদারি।
