ভাইরাল খবর
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার নিয়ে উদ্বেগ জানাল ভারত, তদন্ত চায় নয়াদিল্লি
ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর ধারাবাহিক নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত। শুধু রাজনৈতিক কারণে এমন ঘটনা ঘটছে—এই ব্যাখ্যা যথেষ্ট নয় বলেই সাফ জানিয়ে দিল নয়াদিল্লি। বুধবার (৯ এপ্রিল), সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, সংখ্যালঘুদের উপর হওয়া অত্যাচারকে ‘রাজনৈতিক’ বা ‘সংবাদমাধ্যমের অতিশয়োক্তি’ বলে উড়িয়ে দেওয়া অনুচিত। তাঁর কথায়, “এই ধরনের নৃশংস ঘটনাগুলির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে বলেই ভারতের প্রত্যাশা।”
তিনি আরও জানান, এই ইস্যুতে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। সংখ্যালঘুদের উপর নেমে আসা নির্মমতার বিষয়টি ভারত সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করাও নতুন কিছু নয়।
আরও পড়ুনঃ চিনঘেঁষা ইউনুস! আর ব্যবসা নয়, বাংলাদেশকে ‘গেট আউট’ বলল দিল্লি
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। যদিও বাংলাদেশের প্রশাসনের বক্তব্য, বেশিরভাগ ঘটনাই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঘটেছে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ২,৩৭৪টি অভিযোগ জমা পড়ে, যার মধ্যে ১,২৫৪টি তদন্ত করেছে সে দেশের পুলিশ। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযোগগুলির ৯৮ শতাংশই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত।
তবে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। নয়াদিল্লির মতে, রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বা বৈষম্যের অভিযোগকে হালকাভাবে দেখা যায় না। মার্চ মাসেও কেন্দ্র জানিয়েছিল, তারা চায় বাংলাদেশের প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করুক—নির্যাতিত কার, তা বিচার না করে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যদিও বারবার জানানো হয়েছে, সংখ্যালঘুরা সে দেশে সুরক্ষিত রয়েছেন। একই সঙ্গে তারা অন্য কোনো দেশের মন্তব্যকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলেও মনে করছে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের আবহে এই মন্তব্য নতুন দিশা তৈরি করবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে ভারতের কূটনৈতিক বার্তাটি স্পষ্ট—মানবাধিকারের প্রশ্নে কোনও ছাড় নয়। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ন্যায়ের প্রশ্নে পাশে থাকতেই চায় নয়াদিল্লি।
