চিনঘেঁষা ইউনুস! আর ব্যবসা নয়, বাংলাদেশকে ‘গেট আউট’ বলল দিল্লি
Connect with us

দেশের খবর

চিনঘেঁষা ইউনুস! আর ব্যবসা নয়, বাংলাদেশকে ‘গেট আউট’ বলল দিল্লি

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সমীকরণে নয়া মোড়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে কার্যত নড়বড়ে হয়ে পড়েছে দুই দেশের বন্ধুত্বের ভীত। আর সেই শূন্যস্থান পূরণে দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস যে পথে হাঁটছেন, তা স্পষ্টতই ভারতের স্বার্থবিরোধী—এমনটাই মনে করছে বিশ্লেষক মহল।

ইতিমধ্যেই পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে সখ্যতা গাঢ় করতে মরিয়া ইউনুস। সেই প্রেক্ষাপটে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যিক সম্পর্কেও ধস নেমেছে। সম্প্রতি ভারতের শুল্ক দফতরের তরফে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছে, আর ভারতের মাটি ব্যবহার করে কোনও তৃতীয় দেশের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে না বাংলাদেশ। অর্থাৎ, বাংলাদেশের জন্য ভারতের স্থলবন্দর, বিমানবন্দর, কিংবা ‘ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন’-এর রাস্তা একপ্রকার বন্ধ করে দিল দিল্লি।

আরও পড়ুনঃগাজা-গর্জনে বাংলাদেশ: প্রতিবাদে হিংসা, দোষীদের খোঁজে তৎপর প্রশাসন

২০২০ সালের ২৯ জুন দু’দেশের মধ্যে হওয়া বিশেষ চুক্তি অনুসারে এই সুবিধা চালু হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার ‘সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ইন্ডিরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস’ (CBIC) সেই চুক্তি বাতিল করে দেয়। ঘোষণায় বলা হয়, এখন থেকে ভারতের বন্দর ও রপ্তানি সংক্রান্ত কাঠামো ব্যবহার করতে আর পারবে না বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের নেপাল, ভুটান এবং মায়ানমারের সঙ্গে ব্যবসা বড় ধাক্কা খেতে চলেছে। ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনের ডিরেক্টর জেনারেল অজয় সহায় এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “এখন আমাদের পণ্য রপ্তানির পরিসর বাড়বে, জায়গার সংকট কমবে।”

Advertisement
ads

এই রদবদলের পেছনে ইউনুসের সাম্প্রতিক বিতর্কিত চিন সফর এবং ভারতের সেভেন সিস্টার রাজ্য নিয়ে তাঁর মন্তব্যকে দায়ী করছেন অনেকেই। চিনের বেজিংয়ে গিয়ে ইউনুস বলেছিলেন, “ভারতের পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য সমুদ্রপথে একরকম আটকে রয়েছে। বাংলাদেশই সেই অঞ্চলের জন্য সমুদ্রপথের একমাত্র ‘রাজা’।”

এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেকেই মনে করছেন, ভারতের একাধিক রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদী চক্রান্তে ঢাকার এই নতুন অবস্থান চিনকে সুবিধা করে দিতে পারে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউনুসের মন্তব্য শুধু ‘কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অবিবেচক’ নয়, বরং তা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের কফিনে শেষ পেরেকও হতে পারে। সে কারণেই ব্যবসার মোক্ষম পথ বন্ধ করে কড়া বার্তা দিল দিল্লি।