দেশের খবর
মিগ-২১ এর অবসরে আবেগঘন বার্তা, ভারত-রাশিয়ার বন্ধুত্বের প্রতীক বললেন রাজনাথ
ডিজিটাল ডেস্কঃ ৬০ বছরের দীর্ঘ পরিষেবা শেষে অবশেষে অবসর নিল ভারতীয় বায়ুসেনার (Indian Air Force) অন্যতম প্রতীক যুদ্ধবিমান মিগ-২১ (MiG-21)। শুধু একটি যুদ্ধবিমানের বিদায় নয়, বরং এক ঐতিহাসিক যুগের সমাপ্তি।
শুক্রবার সরকারিভাবে মিগ-২১-এর কার্যকাল শেষ হওয়াকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বিদায়ী অনুষ্ঠানে আবেগঘন অথচ তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী (Defence Minister) রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। তিনি বলেন, “মিগ শুধুমাত্র আমাদের দেশের প্রতিরক্ষা শক্তির (defence strength) প্রতীক ছিল না, এটি ছিল ভারত এবং রাশিয়ার মধ্যে সুদৃঢ় সম্পর্কেরও প্রমাণ।”
#WATCH | Chandigarh: Defence Minister Rajnath Singh says, “MiG 21 is not merely an aircraft, it is a testimony of India-Russia relations.” pic.twitter.com/zRsuTXS39w
— ANI (@ANI) September 26, 2025
ভারতীয় বায়ুসেনার ইতিহাসে মিগ-২১ একটি শক্তিশালী স্তম্ভ। একসময় ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে মোট ৯০০টি মিগ-২১ ছিল, যার মধ্যে ৬৬০টি তৈরি হয়েছিল ভারতে (domestically manufactured)।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ (Liberation War) থেকে শুরু করে বালাকোট অভিযান (Balakot Air Strike)— সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক মিশনে মিগ রেখেছে গর্বের উপস্থিতি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্মৃতিচারণ করে বলেন, “যখনই আমরা কোনও ঐতিহাসিক মিশনে গিয়েছি, তখনই তেরঙ্গার গৌরব বাড়িয়ে তুলেছে মিগ।”
কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বদলে গেছে প্রযুক্তি, আর মিগ-২১ হয়ে উঠেছে ‘উড়ন্ত কফিন (Flying Coffin)’ নামে কুখ্যাত। পরিসংখ্যান বলছে, গত ৬০ বছরে প্রায় ৪০০টি মিগ-২১ দুর্ঘটনায় (crash) পড়েছে। এতে শহিদ হয়েছেন প্রায় ২০০ জন পাইলট (pilots) এবং ৬০ জনের বেশি সাধারণ মানুষ (civilians)।
এদিন জমকালো এয়ার শো (air show)-এর মাধ্যমে সরকারিভাবে বিদায় জানানো হয় এই যুদ্ধবিমানকে। উপস্থিত ছিলেন বায়ুসেনার শীর্ষকর্তারা, মহাকাশচারী (astronaut) শুভাংশু শুক্লা (Shubanshu Shukla) সহ অনেকে।
রাজনাথের বক্তব্যে স্পষ্ট, এই বিদায় শুধুই প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত নয়—বরং এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ছায়াও। বিশেষত সাম্প্রতিক সময়ের প্রেক্ষাপটে, যেখানে আমেরিকার চাপ উপেক্ষা করে ভারত রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখেছে, সেখানে মিগ-২১ এর প্রসঙ্গ হয়ে উঠেছে আরও প্রাসঙ্গিক।
মিগ-২১ হয়তো এবার অবসরে গেল, কিন্তু তার গর্ব, ইতিহাস আর ঐতিহ্য থেকে যাবে ভারতের প্রতিরক্ষা ও কূটনীতির (diplomatic) গর্বের অংশ হয়ে।
