চিকিৎসক জঙ্গি উমর! দিল্লি বিস্ফোরণে ‘হোয়াইট কলার’ মডিউলের নাম জড়িয়ে নয়া মোড়
Connect with us

দেশের খবর

চিকিৎসক জঙ্গি উমর! দিল্লি বিস্ফোরণে ‘হোয়াইট কলার’ মডিউলের নাম জড়িয়ে নয়া মোড়

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ দিল্লির ঐতিহাসিক রেড ফোর্ট (Red Fort)-এর কাছে সোমবার রাতে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণ (Car Blast) কাঁপিয়ে দিয়েছে রাজধানীকে। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৩ জন। বিস্ফোরণের পর থেকে একের পর এক তথ্য উঠে আসছে তদন্তকারীদের হাতে। এবার সামনে এলো এক চাঞ্চল্যকর তথ্য — ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে একটি ‘হোয়াইট কলার (White Collar)’ সন্ত্রাস মডিউল (Terror Module)

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হুন্ডাই আই২০ (Hyundai i20) গাড়িটি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা (Pulwama) জেলার বাসিন্দা চিকিৎসক উমর মহম্মদ (Dr. Umar Mohammad)-এর নামে নিবন্ধিত ছিল। ওই চিকিৎসকই নাকি সেই ‘হোয়াইট কলার’ মডিউলের সদস্য, যাদের সম্প্রতি জম্মু–কাশ্মীর (Jammu & Kashmir)হরিয়ানা (Haryana) পুলিশ যৌথভাবে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, এখন এই বিস্ফোরণকে সরাসরি সন্ত্রাসবাদী হামলা (Terror Attack) হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশ UAPA (Unlawful Activities Prevention Act)-এর ১৬ ও ১৮ ধারায় মামলা দায়ের করেছে। পাশাপাশি Explosives Act এবং IPC (Indian Penal Code)-এর খুনের ধারাও যোগ করা হয়েছে।

সূত্রের দাবি, উমরের দুই সহযোগী — ডা. মুজাম্মিল শাকিল (Dr. Muzammil Shakil) এবং ডা. আদিল রাঠার (Dr. Adil Rather) — গ্রেপ্তার হওয়ার পর উমর আতঙ্কে পড়ে যান এবং সেই কারণেই রেড ফোর্টের কাছে গাড়িটি বিস্ফোরণ ঘটান।

Advertisement
ads

ঘটনার দিন সকালে ফরিদাবাদ (Faridabad) থেকে উদ্ধার করা হয় প্রায় ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক (Explosives)। পুলিশের অনুমান, হামলায় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (Ammonium Nitrate) ব্যবহার করা হয়েছিল—যা সাধারণত সার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু বোমা তৈরিতেও কার্যকর।

একই দিনে জম্মু–কাশ্মীর ও হরিয়ানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ফরিদাবাদের দুটি ভাড়া বাড়ি থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। ওই বাড়িগুলি ভাড়া নিয়েছিলেন মুজাম্মিল শাকিল।

দিল্লি পুলিশ কমিশনার সতীশ গোলচা (Satish Golcha) বলেন, “একটি গাড়ি সিগন্যালে থামার পরই বিস্ফোরণ ঘটে। আশপাশের গাড়িগুলিও আগুনে পুড়ে যায়।”

রেড ফোর্টের ব্যস্ত এলাকায় এই বিস্ফোরণে অন্তত ছয়টি গাড়ি ও একাধিক অটোরিকশা (Auto Rickshaw) আগুনে ধ্বংস হয়। ঘটনাস্থল রক্তে ভেসে যায়।

Advertisement
ads

বর্তমানে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police), NIA (National Investigation Agency), NSG (National Security Guard), IB (Intelligence Bureau), UP ATS, হরিয়ানা ও জম্মু–কাশ্মীর পুলিশ — মিলে যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে।

পুলওয়ামা থেকে তারিক (Tariq) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, যিনি গাড়িটি উমরকে বিক্রি করেছিলেন বলে জানা যাচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) জানিয়েছেন, “কোনও সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। সীমান্তপারের যোগসাজশ (Cross-Border Links) সহ সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” সূত্রের দাবি, ধৃত মডিউলটি পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ–ই–মহম্মদ (Jaish-e-Mohammad)-এর সঙ্গে যুক্ত, যারা শিক্ষিত পেশাজীবীদের (Educated Professionals) ব্যবহার করে নাশকতা চালায়।

Advertisement
ads