রায়গঞ্জ
রীতি ভেঙে রায়গঞ্জে বৌমাদের জন্য উৎসব, পালিত হল ‘বৌমা ষষ্ঠী
ডিজিটাল ডেস্ক: সমাজে নারীদের মঙ্গল কামনায় এক অভিনব উদ্যোগের জন্ম দিলো রায়গঞ্জ শহর। জামাইষষ্ঠী (Jamaishasthi)-এর চার দিন আগে, বুধবার শহরের দেবীনগরের (Debinagar) একটি রেস্তোরাঁয় বৌমাদের জন্য বিশেষ ‘বৌমা ষষ্ঠী’ (Bouma Shasthi) উৎসবের আয়োজন করা হয়। জামাইষষ্ঠীর নিয়ম মেনে অনুষ্ঠিত এই পার্বণে বৌমাদের কপালে হলুদ টিপ দিয়ে হাতে হলুদ সুতো বাঁধা হয়, আর শেষে ষোড়শ ব্যঞ্জনে ভুরিভোজের আয়োজন করা হয়।
প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে জামাইষষ্ঠী পালন করা হয়। এতে বিবাহিত মেয়েরা ও তাঁদের জামাইদের সম্মানে নানা অনুষ্ঠান হয়। তবে রায়গঞ্জের এই উদ্যোগে জামাইষষ্ঠীর প্রথা ভেঙে বৌমাদের জন্য বিশেষ করে এই উৎসব তৈরি করা হয়েছে। আয়োজকরা বলছেন, বর্তমান সমাজে নারীদের অধিকাংশ সময় ব্রাত্য বা অবহেলা করা হয়, তাই তাঁদের মর্যাদা ও গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য এমন আয়োজন প্রয়োজন।
এক মুঠো হাসি (Ek Muttho Hashi) নামের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারি পারমিতা রায় (Parmita Roy) বলেন, “আমাদের সমাজে বৌমাদের গুরুত্ব অনেক কম, তাই আজকের দিনটা তাঁদের জন্য একটি বিশেষ উপহার। আমরা ভবিষ্যতে আরও বড় আকারে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করব।”
আরও পড়ুনঃ রক্ত নয়, মুখ স্ক্যানেই ব্লাড রিপোর্ট! ভারতের তৈরি অ্যাপে বিপ্লব চিকিৎসাক্ষেত্রে
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নারীরা নিজেদের মধ্যে একে অপরকে হলুদের টিপ পরিয়ে, হাতে হলুদ সুতো বাঁধে, পাখার হাওয়াও দিয়ে মঙ্গল কামনা করেন। ভুরিভোজ ও নাচ-গানের মধ্য দিয়ে বৌমারা দিনটি আনন্দের সাথে কাটান। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নারীর মর্যাদা এবং সমান অধিকার প্রতিষ্ঠায় নতুন মাত্রা যোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদিও খাতায়-কলমে নারীদের সমান অধিকার থাকলেও বাস্তবে তা অনেক ক্ষেত্রেই মেনে চলা হয় না। এই কারণেই সমাজে প্রথাগত বন্ধন ভেঙে নিজের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এই ধরণের উদ্যোগ বিশেষ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
রায়গঞ্জের ‘বৌমা ষষ্ঠী’ উৎসব নারীর মর্যাদা ও সম্মানের জন্য এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বলে মনে করা হচ্ছে।
