মালদা
স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা পরিষেবা না মেলায় স্বেচ্ছায় মৃত্যুর আবেদন অসহায় পরিবারের, ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস বিডিও-র
নিজস্ব সংবাদদাতা , হরিশ্চন্দ্রপুর , ২০ ফেব্রুয়ারি : স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও সরকারি থেকে বেসরকারি সমস্ত হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে ও চিকিৎসা পরিষেবা না পেয়ে স্বপরিবারে স্বেচ্ছায় মৃত্যুর আবেদন জানিয়েছেন এক গৃহবধূ।
মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ১নং ব্লকের হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বারোডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা পিংকি দাস গত একবছর ধরে দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে বিভিন্ন সরকারী এবং বেসরকারী হাসপাতালে ঘুরেও মেলেনি চিকিৎসা। অবশেষে শনিবার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লকের বিডিওর দ্বারস্থ হয় অসহায় এই পরিবার। জানা যায়, হরিশ্চন্দ্রপুর ১নং ব্লকের হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বারোডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা পিংকি দাস। বয়স ২৪। প্রায় ১০ বছর আগে পার্শ্ববর্তী তুলসীহাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের মিরজাতপুর গ্রামের রঞ্জিত দাস এর সঙ্গে বিয়ে হয় তার। তাদের ছোট দুই সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের ২ বছর পর থেকেই স্বামী প্রচন্ড অত্যাচারে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাবার কাছে চলে আসতে বাধ্য হন ওই গৃহবধূ। পিংকি দেবীর বাবা দীপক দাস পেশায় ভ্যানচালক। মা লক্ষ্মী দাস দিনমজুর। ভাই বিট্টু দাসও দিনমজুরের কাজ করে। জানা গেছে প্রায় এক বছর ধরে অসুস্থ পিংকি। মাথা এবং সারা শরীরে ব্যথা সহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে তার। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। স্বাস্থ্য সাথী কার্ড রয়েছে তাদের।কিন্তু একমাস ধরে বিভিন্ন সরকারী এবং বেসরকারী হাসপাতালে ঘুরেও মেলেনি চিকিৎসা। অভাবের সংসারে চিকিৎসা করা তাদের পক্ষে অসম্ভব। তাই স্বপরিবারে স্বেচ্ছায় মৃত্যুর আবেদন জানিয়েছেন পিংকি দেবী সহ ওনার বাবার বাড়ির পরিবার।
এই বিষয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লকের বিডিও অনির্বাণ বসু বলেন,”আমরা এই নিয়ে একটা অভিযোগ পত্র পেয়েছি তবে তাতে পরিষ্কারভাবে কিছু লেখা নেই। আমাদের বিস্তারিত ভাবে জানতে হবে। প্রশাসন অবশ্যই পাশে দাঁড়াবে। আর যেসব হাসপাতাল স্বাস্থ্যসাথী লিস্ট এর অন্তর্ভুক্ত সেখানে গিয়ে চিকিৎসা না পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।জেলায় সমস্ত ব্যাপারটি জানানো হবে।”
