জঙ্গি হানার পর ফের ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’-এর দাবিতে সরব দেশবাসী
Connect with us

হামলা

জঙ্গি হানার পর ফের ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’-এর দাবিতে সরব দেশবাসী

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে নিরীহ পর্যটকদের উপর ভয়াবহ জঙ্গি হামলার জেরে দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের আবহ। ঘটনার পরেই সৌদি সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার ভোরে দিল্লি বিমানবন্দরে নেমেই তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর-সহ একাধিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক আধিকারিক। সূত্রের খবর, দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে বসছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক, যেখানে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে শুধু রাজনৈতিক তৎপরতা নয়, সীমান্তের ওপার থেকেও শুরু হয়েছে অস্বাভাবিক সেনা গতি-প্রকৃতি। একাধিক সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, হামলার পর থেকেই পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি ও লাহোরের সামরিক ঘাঁটিতে নজরকাড়া বিমান তৎপরতা দেখা গিয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইটFlightradar24’-এ দেখা গিয়েছে, পাকিস্তান বিমান বাহিনীর অন্তত দুটি বিমান — PAF198 (Lockheed C-130E Hercules) ও PAF101 — উত্তর দিকের ঘাঁটিগুলিতে ঘনঘন উড়ান দিচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ পাহেলগাঁও কাণ্ডে উদ্বেগ, দেশে ফিরেই দোভালদের সঙ্গে বৈঠক মোদীর

সাধারণত এই ধরনের বিমানগুলি ভিআইপি চলাচল অথবা কৌশলগত নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হয়। তাই হামলার অব্যবহিত পরেই এই বিমানচালনার গতিবিধি পাকিস্তানের ‘প্রত্যাঘাত’ আশঙ্কা থেকেই কিনা, তা নিয়ে চলছে বিস্তর চর্চা। বিশেষ করে এই দুই বিমানঘাঁটি ভারতের জম্মু-কাশ্মীর সীমান্ত থেকে খুব দূরে নয় — বিষয়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

Advertisement
ads

অন্যদিকে, কেন্দ্রের তরফে এখনও পর্যন্ত সীমান্তে পাক তৎপরতা নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যৌথ উদ্যোগে সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সেনাবাহিনীকেও সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক অবস্থানে রাখা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবারের হামলায় ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন কয়েকজন বিদেশি পর্যটকও। হামলাকারীরা সেনার পোশাকে এসেছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এবং তারা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বেছে বেছে হামলা চালায়। এই হামলার পর দেশজুড়ে ‘সার্জিকাল স্ট্রাইকের’ দাবি ফের জোরালো হয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, কূটনৈতিক স্তরের পাশাপাশি সামরিক স্তরেও ‘জবাব’ এখন সময়ের দাবি।

গোটা পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছে কেন্দ্র। আজকের জরুরি বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এখন তার দিকেই তাকিয়ে দেশবাসী।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement