খুন
পহেলগাঁও হামলায় বাংলার তিন পর্যটকের নৃশংস হত্যাকাণ্ড, নিহতদের মধ্যে সরকারি কর্মচারীও
ডিজিটাল ডেস্কঃ পরিবারের সঙ্গে শান্তির কিছু দিন কাটাতে কাশ্মীরে গিয়েছিলেন তিন বঙ্গবাসী। পহেলগাঁওয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে তাঁদের জীবন থেমে গেল জঙ্গিদের গুলিতে। ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল তিনটি পরিবার। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতার বেহালা এবং পাটুলির দুই বাসিন্দা এবং পুরুলিয়ার ঝালদার এক সরকারি অফিসার।
বেহালার সখেরবাজারের সমীর গুহ ছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারী। স্ত্রী শবরী এবং সন্তানদের সঙ্গে গিয়েছিলেন পহেলগাঁওয়ে। আজ বুধবার তাঁদের ফিরেই যাওয়ার কথা ছিল। তার বদলে শোকের সংবাদে ভেঙে পড়েছে পরিবার। হামলার ভয়াবহ মুহূর্তের কথা জানাতে গিয়ে শবরী বলেন, “বেশ কয়েক জন মুখ ঢাকা দুষ্কৃতী হঠাৎ ঘিরে ধরে আমাদের। বন্দুকের মুখে মাটিতে শুয়ে পড়তে বলে। তারপর কোনও কারণ ছাড়াই আমার স্বামী এবং আর একজনকে টার্গেট করে গুলি চালায় ওরা।” সমীরের রক্তাক্ত দেহের পাশে নির্বাক স্ত্রীর আর্তনাদ এখনও কানে বাজছে স্থানীয়দের।
আরও পড়ুনঃ জঙ্গি হানার পর ফের ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’-এর দাবিতে সরব দেশবাসী কলকাতার বৈষ্ণবঘাটা পাটুলির বিতান অধিকারী কর্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লরিডায় থাকতেন। স্ত্রী সোহিনী ও তিন বছরের ছেলে হৃদানকে নিয়ে সম্প্রতি এসেছিলেন কলকাতা। ভারত সফরের অংশ হিসেবে কাশ্মীর ঘুরতে গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন মুহূর্ত কাটিয়েছিলেন। ঘণ্টাখানেক পরেই সেই সময় রূপ নেয় বিভীষিকায়। সোহিনীর চোখের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয় বিতানকে। মর্মান্তিক সেই দৃশ্য যেন এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না স্ত্রী।
পুরুলিয়ার ঝালদার বাসিন্দা মণীশরঞ্জন মিশ্র কর্মরত ছিলেন হায়দরাবাদে, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইবির উচ্চপদস্থ আধিকারিক হিসেবে। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন অযোধ্যা, হরিদ্বার হয়ে কাশ্মীরে। পরিকল্পনা ছিল, পরে বৈষ্ণোদেবীতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগ দেবেন। সেইমতো তাঁর বাবা-মা ও ভাই রওনা দেন ঝালদা থেকে। কিন্তু ডালটনগঞ্জ পৌঁছে জানতে পারেন, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন মণীশ। ঘুরতে যাওয়ার আনন্দের বদলে ফিরে আসে কফিন—শোকস্তব্ধ পুরো পরিবার।
পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ২৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে বাংলার এই তিন সন্তানও। শান্তির খোঁজে যাওয়া যাত্রাপথ যে এতটা রক্তাক্ত হবে, তা কেউ ভাবেননি। সরকারিভাবে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও, তাঁদের অপূরণীয় ক্ষতি যে আর কোনওদিন পূরণ হবে না, তা বলাই বাহুল্য।
