ভাইরাল খবর
তাসের ঘরের মতো ভাঙছে ঘাসফুল! শুভেন্দুর বৈঠকে হাজির কুণাল-ফিরহাদরা
ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলার রাজনৈতিক ভূকম্পনে এবার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে দুর্ভেদ্য দুর্গটি। বুধবার নবান্নের (Nabanna) সভাঘরে যা ঘটল, তা এককথায় নজিরবিহীন। সমস্ত জল্পনা ও আনুগত্যের প্রাচীর ভেঙে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে (Administrative Meeting) যোগ দিতে সশরীরে হাজির হলেন তৃণমূলের ২০ জন বিধায়ক, যার মধ্যে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট স্তম্ভরা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্তও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ ও কুণালকে ওয়াই চ্যানেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চে (Protest Stage) শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াইয়ের বার্তা দিতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু ঠিক ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই নবান্নের কনফারেন্স রুমে (Conference Room) মুখ্যমন্ত্রীর ঠিক কয়েক আসন দূরে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে বসে থাকতে দেখা গেল তাঁদের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের তৈরি করা ‘কাকলি ট্রেইল’ (Kakli Trail) অনুসারেই ঘটছে। গত ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী বিধায়কদের (Opposition MLAs) ডাকার কোনো রেওয়াজ ছিল না। তবে শুভেন্দু সরকারের কলকাতা, হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার এই বৈঠকে হাজির হয়ে ফিরহাদ-কুণালরা দলের নিচুতলার কর্মীদের স্পষ্ট বার্তা দিলেন যে, একচ্ছত্র ক্ষমতার যুগ এখন অতীত।
বৈঠকে প্রকাশ্য বিদ্রোহী (Rebel) ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার উপস্থিতিও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। জাল সই বিতর্কের (Signature Controversy) জেরে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরই তাঁরা সরব হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। বুধবার সকালেই বিধানসভার (Assembly) নৌসের আলি কক্ষে ৮০ জনের মধ্যে ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়ক সাদা কাগজে সই করে স্পিকারের কাছে ঋতব্রতকে পরিষদীয় দলনেতা (Legislative Party Leader) করার প্রস্তাব জমা দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন, “আমরাই আসল তৃণমূল”। এই সাঁড়াশি চাপের মুখেই তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক কমিটি (Organizational Committee) বিলুপ্ত করা হয়েছে। ২০২৬-এর ভোটে পরাজয়ের মাত্র ২৮ দিনের মাথায় ১৯৯৮ সালে গঠিত ২৮ বছরের পুরনো এই দলটির অস্তিত্ব এখন বড়সড় সংকটের মুখে।
