দেশের খবর
ডিজিটাল ভারতের নয়া অধ্যায়: আজ থেকে স্মার্টফোনের অ্যাপে শুরু হলো দেশের প্রথম ডিজিটাল জনগণনা
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারতের ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হলো আজ। ১৬তম এবং স্বাধীনতার পর অষ্টম জনগণনা (Census 2027) শুরু হলো সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে (Digital Mode)। রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সেনসাস কমিশনার মৃত্যুঞ্জয়কুমার নারায়ণ জানিয়েছেন, এবার কাগজ-কলমের বদলে স্মার্টফোনের (Smartphone) মাধ্যমেই যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ডিজিটাল প্রক্রিয়ার কারণে ২০২৭ সালের মধ্যেই এই জনগণনার অধিকাংশ পরিসংখ্যান (Statistics) প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
জনগণনার প্রথম দফার কাজ আজ ১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে। এই পর্যায়ে মূলত ঘরবাড়ি তালিকাভুক্তকরণ (Houselisting) এবং আবাসন সংক্রান্ত তথ্য নেওয়া হবে। সরকার এই ধাপের জন্য ৩৩টি প্রশ্নের তালিকা প্রস্তুত করেছে। এতে বাড়ির মেঝে, দেওয়াল ও ছাদের নির্মাণ সামগ্রী (Construction Material) থেকে শুরু করে পানীয় জল, বিদ্যুৎ, শৌচাগার, ইন্টারনেটের সুবিধা এবং গৃহকর্তার বিবরণ সংগ্রহ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে অর্থাৎ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হবে প্রকৃত জনসংখ্যা গণনা এবং বহুল চর্চিত জাতি সমীক্ষা (Caste Census)।
এবারের বিশেষ আকর্ষণ হলো ‘সেল্ফ এনুমারেশন’ (Self-enumeration) বা স্ব-গণনার সুবিধা। নাগরিকরা নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে ১৬টি ভাষায় (বাংলাসহ) নিজেদের তথ্য মোবাইল বা ল্যাপটপের মাধ্যমে নিজেরাই জমা দিতে পারবেন। এতে গণনাকারীদের (Enumerators) ওপর কাজের চাপ কমবে। সেনসাস আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১১-র তুলনায় বর্তমানে দেশে গ্রামের সংখ্যা কিছুটা কমলেও উপজেলা (Tehsil) ও জেলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশে জেলা সংখ্যা ৬৪০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৮৪টি।
তবে আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখনও এই প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি (Notification) প্রকাশ করেনি, যা নিয়ে আলোচনা চলছে। এই বিপুল কর্মযজ্ঞের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ১১,৭১৮.২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ (Allocation) করেছে। প্রায় ৩০ লক্ষ সরকারি কর্মী এই কাজে যুক্ত রয়েছেন। ডিজিটাল এই রূপান্তর তথ্যের নির্ভুলতা (Accuracy) এবং গোপনীয়তা (Privacy) নিশ্চিত করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


