প্রতারণা
পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাকে ইডির তলব
ডিজিটাল ডেস্কঃ পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি (recruitment fraud) মামলায় নতুন মাত্রায় এগিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED)। এবার তলব করা হয়েছে রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু (Suijit Basu)-র স্ত্রী ও পুত্র ও কন্যাকে। ইডি সূত্রে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে সিজিও (CGO) কমপ্লেক্সে তাঁদের হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
ইডি সূত্র জানাচ্ছে, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই একাধিক দফায় তল্লাশি (search raid) চালানো হয়েছে। এই মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন অয়ন শীলসহ বেশ কয়েকজনকে। গত বছর অক্টোবরে লেকটাউনে মন্ত্রীর দুটি বাড়ি ও তাঁর দফতরে হানা দিয়েছিল ইডি আধিকারিকরা। তখন মন্ত্রীর ছেলে সমুদ্র বসুর ধাবাতেও (eatery) তল্লাশি চালিয়েছিল তদন্তকারীরা। সেই অভিযানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলার (school recruitment scam) তদন্ত করতে গিয়ে ব্যবসায়ী অয়ন শীলকে প্রথম গ্রেফতার করেছিল Central Bureau of Investigation (CBI)। পরে তাঁর সল্টলেকে অফিসে তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া যায় বেশ কিছু উত্তরপত্র বা OMR শিট। সেখান থেকেই পুরসভায় নিয়োগের ক্ষেত্রেও দুর্নীতির হদিস মেলে। ওই সংস্থা নিয়েছিল নিয়োগের ক্ষেত্রে OMR শিট ছাপানোর দায়। তদন্তে নেমে একে একে আরও অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে নিশ্চিত হয় অবৈধভাবে অর্থ লেনদেন (illegal financial transactions) হয়েছে, তদন্তের দায়িত্ব নেয় ইডি।
ইডি সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, তদন্তে উঠে আসা নতুন তথ্য ঘিরেই মন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে অর্থ লেনদেনের (money trail) দিকটি খতিয়ে দেখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় লেকটাউনে মন্ত্রীর বাড়ি ও অফিসে টানা ১৪ ঘণ্টা তল্লাশি চালায় ইডি। সেই সময়ে বেশ কিছু নথি ও মন্ত্রীর মোবাইলফোন বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। ইডি দাবি করে, ওইসব নথি খতিয়ে দেখেই তদন্তে নতুন দিক খুলেছে, যার ভিত্তিতে ফের মন্ত্রীর পরিবারকে ডাকা হয়েছে।
মাস খানেক আগে কলকাতা ও আশপাশের ১৩ জায়গায় শুক্রবার তল্লাশি চালায় ইডি। ওই সময় ১৩টি জায়গায় থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয় নগদ ৪৫ লক্ষ টাকা এবং নথিপত্র। তবে ওই নগদ টাকা কোথা থেকে মিলেছে, তা স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি ইডি। মন্ত্রীর দফতর বা সংস্থা থেকে কোনও টাকা আটক করা হয়েছিল কি না, বা করলে কত পরিমাণে, তারও বিষয়ে নিশ্চিত বিবৃতি দেওয়া হয়নি।


