রাজনীতি
কলকাতা হাইকোর্টের রায়: মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ, দলত্যাগ বিরোধী আইনের প্রভাব
ডিজিটাল ডেস্কঃ বঙ্গ রাজনীতিতে (West Bengal Politics) বিরল ঘটনা ঘটল। কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court) মুকুল রায়ের (Mukul Roy) বিধায়ক পদ (MLA seat) দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law) অনুযায়ী খারিজ (Disqualified) করল।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) পর, ১১ জুন মুকুল বিজেপি (BJP) থেকে তৃণমূলে (TMC) যোগ দিলে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আদালতে আবেদন করেন। মামলার বিষয় ছিল, দলত্যাগী (Defector) মুকুলকে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (Public Accounts Committee, PAC) চেয়ারম্যান করার ক্ষেত্রে বৈধতা কি।
প্রথমে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (Speaker Biman Banerjee) মুকুলের বিধায়ক পদ খারিজ করার আবেদন খারিজ করেন। তিনি জানান, মুকুল আনুষ্ঠানিকভাবে (Formally) এখনও বিজেপির সদস্য, তাই পদ খারিজের প্রশ্নই ওঠে না।
তবে বিরোধীরা (Opposition) আদালতের দ্বারস্থ হন। ২০২৩ সালে শুভেন্দু অধিকারীর মামলা নতুন করে হাইকোর্টে (High Court) জমা হয়। বৃহস্পতিবার বিচারপতি দেবাংশু বসাকের (Justice Debangshu Basak) নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ (Division Bench) সিদ্ধান্ত দেন, দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী মুকুলের বিধায়ক পদ খারিজ করা হলো। পাশাপাশি, অধ্যক্ষের আগের সিদ্ধান্তও বাতিল করা হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিজেপির টিকিটে জিতে অন্য দলে যোগ দেওয়া (Joining another party) সাংবিধানিক (Constitutional) নিয়মের পরিপন্থী। এই রায়ের ফলে, প্রথমবার বঙ্গে (West Bengal) কোনো বিধায়কের পদ দলত্যাগ বিরোধী আইনের (Anti-Defection Law) ভিত্তিতে খারিজ হলো।
এই মামলার সূচনা হয়েছিল ২০২১ সালে, যখন বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায় (Ambika Roy) আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন যে, মুকুল রায় তৃণমূলের (TMC) হয়ে সক্রিয়ভাবে (Actively) কাজ করছেন, তবুও তাঁকে PAC চেয়ারম্যান করা হয়েছে, যা বিরোধী দলের বিধায়কের জন্য বরাদ্দ থাকে।
