বিশ্বের খবর
নোবেল শান্তি পুরস্কারে মারিয়ার জয়, ট্রাম্পের কৃতিত্বের দাবিকে গুরুত্ব দিল না কমিটি
ডিজিটাল ডেস্কঃ নোবেল শান্তি পুরস্কার (Nobel Peace Prize) নিয়ে যতটা আশাবাদী ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump), বাস্তবের ফলাফল ছিল একেবারে ভিন্ন। সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে নরওয়ের নোবেল কমিটি (Nobel Committee) এবারের শান্তির নোবেল তুলে দিল ভেনেজুয়েলার (Venezuela) বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদোর (Maria Corina Machado) হাতে।
বিশ্বের অন্যতম অশান্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের লড়াইকে গুরুত্ব দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি। আত্মগোপনে থেকেও যিনি দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, সেই ‘ভেনেজুয়েলার লৌহমানবী’ (Iron Lady of Venezuela)-কেই দেওয়া হল ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার।
কে এই মারিয়া করিনা মাচাদো?
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর (Nicolas Maduro) বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই লড়াই চালাচ্ছেন মারিয়া করিনা। ভোটে কারচুপির অভিযোগ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সরব হয়েই গত বছর থেকে আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন তিনি।
এবার তাঁর সেই নির্ভীক অবস্থান, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার প্রয়াস এবং আন্তর্জাতিক মহলে প্রভাব ফেলায় তাঁকে দেওয়া হল এই স্বীকৃতি। তিনি আগে থেকেই বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ জনের (Top 100 Influential People) তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিলেন।
ট্রাম্পের স্বপ্নভঙ্গ
শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিজের ভূমিকা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষত হামাস-ইজরায়েল (Hamas-Israel) যুদ্ধবিরতিতে তাঁর ‘অবদান’ তুলে ধরে তিনি নিজেই দাবি করেছিলেন— তিনিই এ বছরের নোবেল পাওয়ার যোগ্য।
নরওয়ের নোবেল কমিটির কাছে সরাসরি আবেদনও করেছিলেন তিনি। এমনকি পুরস্কার ঘোষণার আগের দিন, হামাস ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং শান্তিচুক্তি ঘোষণাকে ঘিরে সেই গুঞ্জন আরও জোরদার হয়েছিল। তবে নোবেল কমিটি শেষ পর্যন্ত সেই চাপের কাছে মাথা না ঝুকিয়ে গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে থাকা এক সাহসিনীকে সম্মান জানাল।
