‘ডিভোর্স নয়, সোজা মৃত্যুই চাই’— বউয়ের অত্যাচারে হাঁফিয়ে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি নির্যাতিত স্বামীর
Connect with us

প্রতারণা

‘ডিভোর্স নয়, সোজা মৃত্যুই চাই’— বউয়ের অত্যাচারে হাঁফিয়ে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি নির্যাতিত স্বামীর

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ বউয়ের জ্বালায় দিন কাটানো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে—এই অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপতির কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর (Euthanasia) অনুমতি চাইলেন উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগরের (Muzaffarnagar) এক যুবক। রীতিমতো ব্যানার হাতে জেলাশাসকের অফিসের সামনে বসে পড়েন ধরনায়! স্ত্রীর ছবিসহ পোস্টারে লেখা, “দানবী স্ত্রীর অত্যাচার আর সহ্য হচ্ছে না, আমাকে মরতে দিন!” এই দৃশ্য রীতিমতো চমকে দিয়েছে গোটা জনপদকে।

যুবকের নাম সুমিত সোনি (Sumit Soni), বাড়ি কুকড়া গ্রামে। তাঁর দাবি, গত বছর জুলাই মাসে বিয়ে করেন পিঙ্কি নামের এক মহিলাকে। কিন্তু বিয়ের দ্বিতীয় দিনই শুরু হয় ভয়ঙ্কর সত্যের উদঘাটন। সুমিতের অভিযোগ, বিয়ের পরপরই স্ত্রী পিঙ্কি জানিয়ে দেন, এই বিয়ে তিনি নিজের ইচ্ছায় করেননি, তাঁর ভালোবাসার মানুষ অন্য কেউ। এরপর থেকেই শুরু হয় অকথ্য মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। কখনও গলা টিপে খুনের চেষ্টা, কখনও বা মারধর—প্রায় প্রতিদিনই তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে ‘নারকীয় অত্যাচার’।

আরও পড়ুনঃ পূজোর কাজে ব্যবহার দুধে থুতু, গ্রেফতার এক মুসলিম দুধ বিক্রেতা

সুমিত জানান, গত ছয় মাস ধরে পিঙ্কি তাঁর বাপের বাড়িতে রয়েছেন, কিন্তু সেখান থেকেও তাঁর উপর চলেছে ভয়াবহ সন্ত্রাস। ফোন করে দেওয়া হচ্ছে খুনের হুমকি, ভাড়াটে গুন্ডা পাঠিয়ে করা হচ্ছে মারধর। শুধু সুমিত নন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরাও। এই পরিস্থিতিতে দিশেহারা যুবক প্রশাসনের শরণাপন্ন হন।

Advertisement
ads

সোমবার, জেলাশাসকের দফতরের বাইরে ব্যানার হাতে বসে পড়েন সুমিত। পোস্টারে স্পষ্ট লেখা, “মাননীয়া রাষ্ট্রপতি মহোদয়া, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ—আমি একজন আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষ। স্ত্রী পিঙ্কির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আপনাদের কাছে শেষ অনুরোধ—আমায় স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিন।”

সুমিত আরও দাবি করেন, পিঙ্কির প্রকৃত বয়স বিয়ের সময় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। “আমার বয়স ২৭, অথচ পিঙ্কির বয়স ৩৫। আমার বাবা বিয়ের খরচ বাবদ ৮ লক্ষ টাকা তুলে ৫ লক্ষ খরচ করেন, বাকি ৩ লক্ষ নিয়ে পিঙ্কি চলে যান বাপের বাড়ি,”— বলেন সুমিত। শুধু তাই নয়, নিজের বাবার সম্পত্তি আদায় করতেও পিঙ্কি নাকি হুমকি দিতেন এবং সুমিতকে বন্ধুদের দিয়ে মারধরের ভয় দেখাতেন।

যখন আইনি পথে সমাধানের চেষ্টা করেন সুমিত, তখনই পালটা তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌন হেনস্থার মামলা দায়ের করা হয় বলে অভিযোগ। এই সমস্ত ঘটনার জেরে এখন তাঁর জীবনে একটিই কামনা—মৃত্যু।

এই নাটকীয় ও মর্মান্তিক অভিযোগ ঘিরে প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সমাজের সামনে এক ভয়াবহ প্রশ্ন তোলা হয়ে গেল—স্ত্রী নির্যাতনের শিকার পুরুষদের জন্য কি কোনও আইনি বা সামাজিক সুরক্ষা নেই?

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement